ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশটি থেকে পাওয়া অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রথম কার্গো বিক্রি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই চালানটি বিক্রির মাধ্যমে মোট ৫০ কোটি ডলার আয় করেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একজন মার্কিন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন ওই সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, আগামী দিনগুলোতে আরও তেলের চালান বিক্রি করা হবে। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ভেনেজুয়েলা তাদের অপরিশোধিত তেলের ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ব্যারেল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে "হস্তান্তর" করবে।
একই কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, বিক্রির অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়েছে। আরেকটি সূত্র জানায়, এসব হিসাবের অন্তত একটি কাতারে রয়েছে। রয়টার্সের মতে, কাতারকে একটি নিরপেক্ষ স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়, "যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনে অর্থ স্থানান্তর করা যায় এবং জব্দ হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।"
এদিকে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের পর ভেনেজুয়েলার তেল কেনার চুক্তি পেতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলো। শেভরন, ভিটল ও ট্রাফিগুরাসহ একাধিক কোম্পানি নিজেদের নৌবহর সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে, যাতে ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ব্যারেলের তেলের যতটা সম্ভব বড় অংশ তারা পরিবহন ও বাজারজাত করতে পারে।
ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল রপ্তানি শেষ পর্যন্ত দৈনিক প্রায় ৫ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে। ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার আগে এই পরিমাণ তেল মার্কিন বাজারে রপ্তানি হতো।
তবে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, প্রাথমিক চালানগুলো আসবে বর্তমানে মজুত থাকা তেল থেকেই, যা ইতোমধ্যে জমা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে এবং এর সঙ্গে জোসে টার্মিনালে বিদ্যমান জট ও প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়টিও জড়িত থাকবে, যেখানে নতুন করে মজুতের সক্ষমতা বর্তমানে সীমিত।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান এনভারাস পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন দৈনিক ১৫ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে, যা বর্তমান উৎপাদন হারের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। সবচেয়ে অনুকূল পরিস্থিতিতে, উৎপাদন দ্বিগুণ হয়ে ২০৩৫ সালে দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে বলেও অনুমান করছে সংস্থাটি। তবে এ সম্ভাবনার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে বৈশ্বিক চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যের ওপর।
এসকে/টিকে