বলিউড ও টেলিভিশনের নাচের মঞ্চে দীর্ঘদিন ধরে রাজত্ব করা গীতা কাপুর এখন ৫২ বছরের পথিক। অসংখ্য তারকাকে তালিম দেওয়া এই কোরিওগ্রাফার দর্শকদের কাছে পরিচিত আদরের ডাকনাম ‘গীতা মা’ নামে, কিন্তু সেই ডাকনামের আড়ালে তাঁকে ঘিরে যে সামাজিক ধারণা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে সম্প্রতি তিনি স্পষ্ট ভাষায় কথা বলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।
দশকের পর দশক ধরে নাচের ভুবনে নিজের ছাপ রেখে আসা গীতা কাপুর বরাবরই স্পষ্টভাষী হিসেবে পরিচিত। মঞ্চের কঠোরতা আর ক্যামেরার আলোয় অভ্যস্ত এই শিল্পী এবার ব্যক্তিগত জীবন, ঘনিষ্ঠতা ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে অকপটে মুখ খুলেছেন। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, বয়স কিংবা ‘গীতা মা’ নামের মতো সম্মানসূচক ডাক তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে পারে না।
তিনি বলেন, অনেকেই তাঁকে মা বলে সম্বোধন করেন, কিন্তু সেই পরিচয়ের অর্থ এই নয় যে তিনি অবিবাহিত থাকলে বা এই নামে পরিচিত হলে তাঁর অনুভূতি, চাহিদা কিংবা ঘনিষ্ঠতার অধিকার থাকবে না। তাঁর মতে, এই মর্যাদা সমাজ তাঁকে দিয়েছে, তিনি নিজে কখনও এমন তকমা দাবি করেননি। গীতা কাপুরের ভাষায়, তিনি অন্য যেকোনো মানুষের মতোই অনুভূতিশীল একজন মানুষ, যার জীবনে আবেগ ও চাহিদা রয়েছে।
ঘনিষ্ঠতা প্রসঙ্গে আরও সরাসরি কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি সত্য লুকোননি। তিনি ডেট করেন এবং শারীরিকভাবেও সন্তুষ্ট, এতে ভুলের কিছু দেখেন না। তাঁর প্রশ্ন, সমাজ কেন এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলাকে অস্বস্তিকর মনে করে, যখন বাস্তবে অনেকেই একই জীবনযাপন করেন।
এটি অবশ্য প্রথমবার নয় যে গীতা কাপুর এমন অবস্থান নিয়েছেন। এর আগে জয় মদনের সঙ্গে এক আলোচনায়ও তিনি বলেছিলেন, তিনি কোনও সন্ন্যাসিনী নন, বরং একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে ডেট করেন এবং ঘনিষ্ঠ হন। ৫২ বছর বয়সেও নিজের শর্তে জীবনযাপন করে তিনি বারবার আত্মসম্মান, আত্মসচেতনতা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বার্তা দিয়ে চলেছেন।
নাচের মঞ্চে যেমন তিনি শৃঙ্খলার প্রতীক, তেমনি ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্পষ্টবাদী ও নির্ভীক। ‘গীতা মা’ নামের আড়ালে তাঁকে নির্দিষ্ট ছাঁচে বন্দি করার চেষ্টার বিরুদ্ধেই যেন তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পিআর/টিকে