প্রয়াত হলিউড অভিনেত্রী শ্যানেন ডোহার্টির মৃত্যুর প্রায় দেড় বছর পর তাদের ডিভোর্স চুক্তি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তার প্রাক্তন স্বামী ও খ্যাতনামা আলোকচিত্রী কার্ট ইসওয়ারিয়েঙ্কো। শ্যানেনের আইনি টিম তার বিরুদ্ধে আর্থিক দায়বদ্ধতা পালনে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তোলার পরই এই আইনি পদক্ষেপ নেন কার্ট।
লস অ্যাঞ্জেলেস সুপিরিয়র কোর্টে গত ১৪ জানুয়ারি কার্টের আইনজীবীরা একটি আবেদন জমা দেন। এর প্রায় দুই মাস আগেই শ্যানেনের এস্টেট কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করে যে, ডিভোর্স সেটেলমেন্ট অনুযায়ী একাধিক আর্থিক শর্ত পূরণ করেননি কার্ট।
শ্যানেনের আইনজীবী ও তার পারিবারিক ট্রাস্টের ট্রাস্টির দাবি, কার্ট ডিভোর্স চুক্তিতে উল্লেখ করা আর্থিক দায়বদ্ধতা মানেননি। তবে কার্টের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই মামলা ভুল আদালতে দায়ের করা হয়েছে এবং ওই আদালতের এই চুক্তি কার্যকর করার কোনো এখতিয়ার নেই। কার্টের আইনজীবীরা আরও যুক্তি দিয়েছেন, ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর শ্যানেনের মৃত্যুর পর এই ডিভোর্স সংক্রান্ত বিষয়টি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। ফলে এই সেটেলমেন্ট আদালতে দাখিলই করা উচিত হয়নি।
শ্যানেনের আইনজীবীরা ২৪ নভেম্বর আদালতে দেয়া নথিতে উল্লেখ করেন, কার্ট এখনো শ্যানেনের ১.৫ মিলিয়ন ডলারের টেক্সাসের বাড়িটি বিক্রি করেননি যার বিক্রয়মূল্য দুই পক্ষের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হওয়ার কথা ছিল। একটি মুনি এম২০ বিমানে শ্যানেনের অংশ কিনে নিতে কার্টকে ১ লাখ ডলার দেয়ার কথা ছিল, যা বিক্রির পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তার এস্টেটে পরিশোধ করার শর্ত ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে বিমানটি বিক্রির পর কার্ট একতরফাভাবে ৫০,২৭৪ ডলার আটকে রেখেছেন, যা এখনো পরিশোধ করা হয়নি।
আর্থিক বিষয় ছাড়াও শ্যানেনের আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, ডিভোর্স চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত লঙ্ঘন করেছেন কার্ট। তিনি শ্যানেনের ব্যক্তিগত কিছু জিনিস, বিশেষ করে তার ব্যক্তিগত ছবি, এখনো ফেরত দেননি বলে দাবি করা হয়েছে। এই মামলাকে ঘিরে হলিউডে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের রায়ে শেষ পর্যন্ত এই আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।
প্রসঙ্গত, শ্যানেন ডোহার্টি ও কার্ট ইসওয়ারিয়েঙ্কোর দাম্পত্য জীবন ছিল ১১ বছরের। ২০২৩ সালে শ্যানেন ডিভোর্সের আবেদন করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৪ সালের ১২ জুলাই তাদের বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়, যা ছিল অভিনেত্রীর মৃত্যুর ঠিক একদিন আগে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
এমআই/এসএন