বলিউডের রাজকীয় পরিবারের সন্তান হিসেবে অভিষেকে আকাশছোঁয়া প্রত্যাশা নিয়ে এসেছিলেন রাশা থাডানি, জুনাইদ খান ও শানায়া কাপুর। বড় ব্যানার, পরিচিত পদবি আর প্রচারের আলো তাঁদের প্রথম ছবির আগেই দর্শকের নজরে এনে দিয়েছিল। কিন্তু প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর সেই উন্মাদনা ধরে রাখতে পারেননি কেউই। তিনজনেরই প্রথম ছবি বক্স অফিসে ধাক্কা খায়, সমালোচনার মুখে পড়ে অভিনয় ও পর্দার উপস্থিতি। তবু বলিউডের চিরচেনা নিয়মেই তাঁদের সামনে খুলে যাচ্ছে দ্বিতীয় সুযোগের দরজা, আর এবার কেন্দ্রবিন্দুতে ভালোবাসার গল্প।
রাশা থাডানির অভিষেক হয়েছিল আজাদ ছবিতে, যা ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হয়। বড় ক্যানভাস আর প্রচার সত্ত্বেও দর্শককে আকর্ষণ করতে পারেনি ছবিটি। একইভাবে আমির খানের ছেলে জুনাইদ খানের প্রথম ছবি লাভেয়াপাও প্রেক্ষাগৃহে সেভাবে সাড়া ফেলেনি। অন্যদিকে শানায়া কাপুরের আঁখোঁ কি গুস্তাখিয়ান ঘিরে আগে থেকেই আলোচনা থাকলেও মুক্তির পর তা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
তবু ২০২৬ সালকে ঘিরে নতুন করে বাজি ধরছে বলিউড। তিন তারকাসন্তানের জন্যই সামনে আসছে তিনটি রোমান্টিক ছবি, যেখানে প্রত্যেকে অভিনয় করছেন প্রতিভাবান সহশিল্পীর সঙ্গে এবং পরিচালনায় আছেন প্রতিষ্ঠিত নির্মাতারা। রাশাকে দেখা যাবে লাইকে লাইকা ছবিতে, যেখানে তাঁর বিপরীতে থাকবেন অভয় ভার্মা, পরিচালনায় সৌরভ গুপ্তা, মুক্তি পাবে গ্রীষ্মে। জুনাইদ খান ফিরছেন এক দিন ছবিতে সাই পল্লবীর সঙ্গে, পরিচালনা করছেন সুনীল পাণ্ডে, মুক্তির তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ১ মে ২০২৬। আর শানায়া কাপুরকে দেখা যাবে তু ইয়া ম্যায় ছবিতে আদর্শ গৌরবের বিপরীতে, পরিচালনায় বেজয় নাম্বিয়ার, যা মুক্তি পাবে ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, তিনটি ছবিই প্রেমের ভিন্ন ভিন্ন রূপ তুলে ধরবে, কোথাও থাকবে গাঢ় আবেগ, কোথাও নাটকীয়তা, আবার কোথাও রোমাঞ্চের ছোঁয়া। শুধু গল্প নয়, ছবিগুলোর পেছনে শক্তিশালী প্রযোজনা সংস্থা থাকায় নির্মাণমান নিয়েও বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই, দর্শক কি তাঁদের দ্বিতীয়বার সুযোগ দিতে প্রস্তুত। প্রথম ধাক্কা কাটিয়ে উঠে নতুন করে নিজেদের প্রমাণ করতে পারলে ২০২৬ সাল হতে পারে তাঁদের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর বছর। আবার প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে এই বছরই হতে পারে তাঁদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের কঠিন পরীক্ষা।
ভালোবাসার গল্পের মোড়কে বলিউড তাই নতুন করে ভরসা রাখছে এই তিন তারকাসন্তানের ওপর। সময়ই বলবে, ২০২৬ সাল তাঁদের জন্য হবে পুনরুত্থানের নাকি আরও এক চ্যালেঞ্জের অধ্যায়।
এসকে/এসএন