অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় গণভোটে হ্যাঁ বলতে হবে। এক ব্যক্তির ইচ্ছায় যেন দেশ না চলে, এক ব্যক্তির ইচ্ছায় যেন সংবিধান সংশোধন না হয়। যেন জবাবদিহি নিশ্চিত হয়। আমাদের সে চেষ্টা করতে হবে। সংবিধানে বলা হয়েছে দেশের মালিক জনগণ। আর সেটা চর্চার জায়গা গণভোট।
আসুন এই গণভোট নিয়ে সকলে চেষ্টা করি, সাফল্য অর্জন নিশ্চিত করা যাবে। নতুন বাংলাদেশ তৈরির আজকের যে সম্ভবনা তা হঠাৎ করে আসে নাই। অনেক রক্ত, অনেক প্রাণ, অনেক অত্যাচারের মধ্য দিয়ে এসেছে। আসুন সেই ঋণ স্বীকার করি, তাদের স্বপ্নকে হ্যাঁ বলি।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হল অডিটোরিয়ামে গণভোটের প্রচারণায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, এক ব্যক্তির ইচ্ছায় এই দেশ আর চলবে না। এই দায়িত্ব শহীদরা আমাদের দিয়ে গিয়েছেন। এই ঋণ স্বীকার করতে হবে। ভবিষ্যতের বাংলাদেশে যেন অতীতের পুনরাবৃত্তি না হয়। বাংলাদেশের সংবিধানের সংশোধনী একজন ব্যক্তির ইচ্ছায় হয়েছে। এক ব্যক্তির ইচ্ছায় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা থাকেনি। এক ব্যক্তির শাসন দেশকে কোথায় নিয়ে গেছে তার উদাহরণ বিগত তিনটি নির্বাচন। সেই সব নির্বাচন নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে।
তিনি বলেন, তিনটি নির্বাচনের নামে এদেশে প্রহসন করা হয়েছে। আর যাতে এক ব্যক্তির ইচ্ছায় ভবিষ্যতে দেশ না চলে এ কারণেই গণভোট। মূলত জনগণের সম্মতিই হচ্ছে গণভোট। আর এই ভোটের গোলাপি ব্যালট রাষ্ট্র সংস্কারের পথরেখা তৈরি করবে। এই ব্যবস্থা আমাদের প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মনে রাখতে হবে জুলাই সনদ সরকারের সনদ নয়, এটা রাজনৈতিক দলগুলোর ঐতমত্যের সনদ। বিশ্বের সর্বত্রই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সরকারিভাবে গণভোট ইতিবাচকভাবে প্রচার করা হয়েছে। গণভোট প্রচারে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের কোনো বাধা নেই, যদি আমরা রাষ্ট্রের সংস্কার চাই।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, শেখ হাসিনার পছন্দের ব্যক্তি হয়েছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু জুলাই জাতীয় সনদ বলছে এগুলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। এগুলোতে নিয়োগ হবে সরকার, বিরোধী দল এবং রাজনৈতিক দলগুলোও সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে। এদেশে বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে গায়েবি মামলায় আসামি করা হয়েছে। জামিন নিতে গিয়ে মানুষকে নিঃস্ব করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে।
এ সময় গণভোট এবং জুলাই সনদের নানাদিক তুলে ধরে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য উচ্চকক্ষের সমর্থন লাগবে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্তভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। প্রতিটি ভোটারের ভোটের মূল্য থাকতে হবে। যে যত ভোট পাবে সে ওই অনুপাতে উচ্চকক্ষে স্থান পাবে। কিন্তু সংবিধান সংশোধন ছেলে খেলায় পরিণত হয়েছে। সেই ব্যবস্থা বন্ধ করতে হলে নিম্ন কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষের সমর্থন লাগবে।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশে এই বিভাগীয় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মিজ ফারাহ শাম্মীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. একেএম ফজলুল হক ভুইয়া, ময়মনসিংহ পুলিশ রেঞ্জের ডিআইজি আতাউল কিবরিয়া দেন।
এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেন, ফ্যাসাদ তৈরি করতে গণভোট নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এগুলো সব ভোগাস। ফ্যাসিবাদ নিবারিত করতেই গণভোট। এতে হ্যাঁ ভোটের বিকল্প নেই।
মনির হায়দার বলেন, পছন্দের সরকার ক্ষমতায় থাকুক বা না থাকুক, জনগণের সুরক্ষার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করবে গণভোট। বিগত ৫৪ বছরের মানুষের প্রত্যাশিত স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তাই আমরা আর নিজ ঘরে পরবাসী হতে চাই না। আজ আমাদের স্বপ্ন পূরণে জন্য সামনে এসেছে গণভোট। রাষ্ট্র ব্যবস্থা সংস্কারে পরিবর্তনের জন্য হ্যাঁ ভোট অপরিহার্য। কোনো কারণে এ সুযোগ হাত ছাড়া করা যাবে না।
মতবিনিময় সভায় জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাসহ ময়মনসিংহ বিভাগের ৪ জেলার ২৪টি উপজেলার সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আইকে/টিএ