ইরানের সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যারা ‘প্রতারিত হয়ে’ অংশ নিয়েছিল, তাদের আগামী তিন দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির জাতীয় পুলিশ প্রধান আহমদ-রেজা রাদান।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, এই সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ‘লঘু দণ্ড’ বা হালকা শাস্তি দেওয়া হবে।
রয়া নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানি প্রশাসন তরুণ বিক্ষোভকারীদের বড় একটি অংশকে সরাসরি শত্রু হিসেবে না দেখে ‘প্রতারণার শিকার’ হিসেবে বিবেচনা করছে এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দিতে এই নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেছে।
জাতীয় পুলিশ প্রধান আহমদ-রেজা রাদান তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন, যেসব তরুণ অনিচ্ছাকৃতভাবে বা উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে দাঙ্গায় জড়িয়ে পড়েছে, তাদের প্রতি শাসনব্যবস্থা নমনীয় আচরণ করবে। তবে এই সুযোগ কেবল আগামী তিন দিনের জন্য কার্যকর থাকবে।
অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি সতর্ক করে বলেন যে, আয়াতুল্লাহ খামেনিকে লক্ষ্য করে কোনো ধরনের হামলা চালানো হলে তা ইরানের পক্ষ থেকে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ’ হিসেবে গণ্য করা হবে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান গত দুই সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অমানবিক নিষেধাজ্ঞা ও শত্রুতাকে দায়ী করেছেন। তার মতে, বর্তমানে ইরানিদের জীবনে যে চরম আর্থিক কষ্ট ও দুরবস্থা বিরাজ করছে, তার প্রধান কারণ হলো মার্কিন সরকার ও তাদের মিত্রদের বৈরি আচরণ।
তিনি দাবি করেন যে, সাধারণ মানুষের এই অসন্তোষকে পুঁজি করে বিদেশি শক্তিগুলো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এর আগে গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন যে, দেশটিতে এখন নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে।
ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ট্রাম্পের উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ সামাল দিতে সরকারের এই ‘ক্ষমা ও কঠোরতা’র মিশ্র নীতি দেশটির ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
তিন দিনের এই সময়সীমার পর নিরাপত্তা বাহিনী দাঙ্গাকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অভিযানে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে তেহরানসহ বিভিন্ন প্রধান শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।
সূত্র: রয়া নিউজ
এমআর/টিএ