ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল আফগানিস্তান। এরপর ১৬২ রানের জুটি গড়ে তাদের আর পেছনে ফিরতে দেননি ইব্রাহিম জাদরান ও দারউইশ রাসুলি। সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়েই থেমেছেন তারা। তবে আফগানিস্তান পেয়ে যায় ১৮১ রানের লড়াকু পুঁজি। তাতে অবদান ছিল শেষদিকে ৮ বলের মাঝে ক্যারিবীয় ফিল্ডারদের ৩ ক্যাচ মিস। পরে ব্যাট হাতে কেউ কার্যকরী না হওয়ায় তাদের ৩৮ রানে হারতে হয়েছে। এর আগেরদিন যুব বিশ্বকাপেও ক্যারিবীয়দের হারায় আফগানরা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি হিসেবে টি-টোয়েন্টি সিরিজে মুখোমুখি আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গতকাল (সোমবার) দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ছিল প্রথম ম্যাচ। টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে রশিদ খানদের পক্ষে ইব্রাহিম জাদরান সর্বোচ্চ ৮৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে রাসুলি করেন ৮৪ রান। অন্যদিকে, অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা কুইন্টিন স্যাম্পসন ক্যারিবীয়দের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩০ রানের ইনিংস খেলেছেন।
এর আগে আফগানদের শুরুটাই হয় দুর্ভাগ্য দিয়ে। ম্যাচের প্রথম ডেলিভারিতেই খাতা খোলার আগে রানআউট হয়ে যান ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ। দলীয় ১৯ রানে আউট সেদিকউল্লাহ অটলও (২)। বিপদে পড়লেও রানের গতি কমতে দেননি ইব্রাহিম-রাসুলি। পাওয়ার প্লেতে আফগানিস্তানের স্কোরবোর্ডে ওঠে ৫১ রান। এরপর অবশ্য কিছুটা মন্থর হয় তাদের ব্যাটিং। ইব্রাহিম ৩৭ এবং রাসুলি ৩৬ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।
শেষ পর্যন্ত ১০১ বলে ১৬২ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় পুঁজি পাইয়ে দেন দুই তরুণ ব্যাটার। অপরাজিত ইব্রাহিম ৫৬ বলে ৮ চার ও ৩ ছক্কায় ৮৭ এবং রাসুলি ৫৯ বলে ৮৪ রানের ইনিংস সাজান ৮ চার ও ২ ছক্কায়। ৩ উইকেটে তাদের স্কোরবোর্ডে জমা হয় ১৮১ রান। উইন্ডিজদের পক্ষে জেইডেন সিলস ও ম্যাথু ফোর্ড একটি করে উইকেট নিয়েছেন।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে আফগানদের শুরুর বিপর্যয়কেও ছাড়িয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলীয় ৫ রানেই আউট অধিনায়ক ব্রেন্ডন কিং (৪)। সেই যে শুরু, এরপর যাওয়া-আসার মিছিল করে ৫০ রানে শেষ ৫ উইকেট। মাঝে জনসন চার্লস (১৬ বলে ২৭) কিছুটা লড়লেও, এভিন লুইস (৪), আমির জাঙ্গু (৩) ও শিমরন হেটমায়াররা (৩) কিছুই করতে পারেননি। এরপর হারের ব্যবধান কমিয়েছেন স্যাম্পসন-ফোর্ড-মোতিরা। চার্লস ছাড়া এই তিনজন কেবল দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পেরেছেন।
অভিষিক্ত ব্যাটার স্যাম্পসন ২৪ বলে ৩০, ফোর্ড ২১ বলে ২৫ এবং ১৫ বলে ২৮ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন গুদাকেশ মোতি। বিপরীতে আফগানদের পক্ষে জিয়াউর রহমান সর্বোচ্চ ৩ এবং মুজিব-উর রহমান, রশিদ খান ও নুর আহমেদ দুটি করে শিকার ধরেন।
আরআই/টিকে