চট্টগ্রামের বাকলিয়া এক্সেস রোডের আলোচিত সাজ্জাদ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. বাদশা প্রকাশ ওরফে পিচ্চি বাদশাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোলাইমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে, রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত বাকলিয়া থানাধীন বলিরহাট কুত্তাপাড়া থেকে মো. বাদশা প্রকাশ ওরফে পিচ্চি বাদশাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযানে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন-শাহরিয়ার ইমন (২৫), মো. মারুফ (২৫) ও মো. আকাশ (২২)।
ছোট বাদশা পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। সাজ্জাদ হত্যা মামলায় সে ২৯৩ নম্বর আসামি। তার বিরুদ্ধে বাকলিয়া থানায় দুটি দস্যুতা মামলাসহ মোট ১০টি নিয়মিত মামলা রয়েছে।
গত ২৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে বাকলিয়া থানাধীন এক্সেস রোড সংলগ্ন মদিনা আবাসিক এলাকার সামনে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যানার টানানো এবং স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ চলাকালে এক পক্ষ অপর পক্ষের ওপর গুলি চালালে মো. সাজ্জাদ (২২) গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়াও পারভেজ (২০), সাজ্জাদ (৩০), মো. শরীফ (২৯), রিফাত (২৫), ইউসুফ (৩০), জিসান (২২), জুয়েল (২৫), একরাম (২৩), ইব্রাহিম (২৩), শুক্কুর (২৫), ওবাইদুল (৩০), সাব্বির (২২), ফারুক (২৮) এবং ফয়সালসহ (২০) আরও ১৪ জন আহত হন।
গুলিবিদ্ধ সাজ্জাদ ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় নিহত সাজ্জাদের বাবা মো. আলম বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ৩৫-৪০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
এ মামলায় সবুজ ইসলাম মিরাজ (২৪), মো. সাইদুল ইসলাম (২০), এমরান হোসেন সাগর (৩০), জিহান (২২), মো. তামজিদুল ইসলাম ওরফে সাজু (৪৭), মো. আরাফাত (২২) এবং তদন্তে প্রাপ্ত আসামি মো. ওসমান (২৮) ও দিদারুল আলম রাসেলকে গ্রেপ্তার রয়েছেন। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত স্পেনের তৈরি একটি বিদেশি পিস্তল, একটি গুলি ও একটি গুলির খোসা।
এ বিষয়ে বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, মো. বাদশা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। তিনি এক্সেস রোডের আলোচিত সাজ্জাদ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি। এ ছাড়াও গ্রেপ্তারকৃত চার আসামিকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পিএ/টিকে