আমরা হ্যাঁ ভোটের জন্য কোনো মানুষকে জোর করবো না : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, যে পরিস্থিতিতে দেশের পরিবর্তন এসেছে এবং যে পরিকল্পনার আকাঙ্ক্ষায় যারা পরিবর্তন এনেছেন, তারা যা ব্যক্ত করেছেন তা সিলেক্ট করা হয়েছে এবং সেই প্রেক্ষিতে আমরা হ্যাঁ ভোটের জন্য সরাসরি বলছি। খেয়াল করে দেখবেন সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে আমরা পক্ষপাতিত্বমূলক কথা বলবো না।


কিন্তু গণভোটের বিষয়ে সত্যিকার অর্থে আমরাও একটি পক্ষ। আমরা চাই হ্যাঁ জয়যুক্ত হোক। কিন্তু সেটা মানুষের ইচ্ছার মাধ্যমেই হতে হবে। 


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে বরগুনা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কাথা বলেন। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। 

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা জীবন দিয়ে যে সুযোগ তৈরি করে রেখেছে, এটা আমাদের সবগুলো জেনারেশনকে এক সূত্রে বেঁধে দিয়েছে। আমরা সবাই বুঝতে পেরেছি আগের যে ব্যবস্থাপনা ছিল সবগুলো জেনারেশনই তা সাফার করেছে। গত ১৫-২০ বছর ধরে আমরা যে ব্যবস্থাপনার মধ্যে ছিলাম, সেটা কিন্তু সব জেনারেশনের মানুষই সাফার করেছে। প্রত্যেকেই সেটা থেকে মুক্তি চেয়েছে। 

তৌহিদ হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এবং বাংলাদেশের সমাজে যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি আছেন, যারা চিন্তা করেন তাদেরকে নিয়েই গণভোটের দিকগুলো দাঁড় করানো হয়েছে। আমরা হ্যাঁ ভোটের জন্য কোনো মানুষকে জোর করবো না। হ্যাঁ ভোট দিলে যে সুবিধা হবে তা বলার পরেও যদি কেউ না ভোট দিতে চায় তাহলে সে দেবে। এটা তাদের স্বাধীন ইচ্ছা। আমরা তাদেরকে গণভোটের পক্ষে বলবো এবং এর দিকগুলো তুলে ধরবো, সিদ্ধান্ত তারা নেবেন। 

তিনি আরও বলেন, আমাদের জেনারেশন সবকিছুতে সফল হয়নি। আমাদের অনেক ব্যার্থতা আছে। তবে সাফল্যও আছে, আমাদের জেনারেশনরাই কিন্তু যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে।
বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলা হত, সেই দুর্নাম থেকে দেশকে আমরা বের করে নিয়ে এসেছি। তবে আমরা পারিনি সুষ্ঠু রাজনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি করতে। যেটাতে সংঘাত ছাড়া

নিয়মতান্ত্রিকভাবে সরকার পরিবর্তন হবে এবং আরেকটা সরকার আসবে। আগের সরকার এবং পরবর্তী সরকারের মধ্যে একটা সুসম্পর্ক থাকবে এবং সবাই দেশের জন্য কাজ করবে। এমন পরিস্থিতি আমরা তৈরি করতে পারিনি। তবে সেটারই কিন্তু এখন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের এই চেষ্টা করতে হবে যেন পুরোনো সেই দিনে আমরা ফিরে না যাই। 

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে গণভোট কিন্তু আগের গণভোটগুলোর থেকে একটু অন্যরকম। বাংলাদেশের মানুষ ভোট দিতে যান এবং ভোট দিতে পছন্দ করেন। তারা সুযোগ পেলে সঠিক ভোট এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেন। আমাদের যে সরকারগুলো পরিবর্তন হয়েছে, আমি মনে করি প্রত্যকটিতে মানুষের সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। এবার মানুষকে সেই সুযোগ দেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সর্বাধিক চেষ্টা করছে। 

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্বাচনে প্রত্যেকেরই ব্যক্তিগত পছন্দ এবং অপছন্দ থাকতে পারে। কিন্তু সেটা ব্যক্তিগত বিষয়। তবে সরকার এই নির্বাচনের বিষয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। আপনাদের কোনো কার্যক্রমে যাতে কারো পক্ষপাতিত্ব দেখা না যায়। আমরা কোনো পক্ষপাতিত্ব করবো না। আমরা অত্যন্ত সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন চাই, যেটাতে মানুষ ভোট দিতে পারবে। এছাড়াও ভোট সঠিকভাবে গণনা হবে এবং গণনার পরে যিনি ভোট বেশি পাবেন তিনিই নির্বাচিত হিসেবে ঘোষিত হবেন। এগুলোই আমাদের চ্যালেঞ্জ এবং আপনাদের সকলের সহযোগিতা থাকলে উত্তরণ হওয়া সহজ হবে। ব্যক্তিগতভাবে কারো পক্ষে কোনো সমর্থন থাকবে না। শুধু ব্যক্তিগত সমর্থন হিসেবে আপনার ভোট আপনি যাকে খুশি তাকে দেন, তবে তাও কোনো অবস্থাতেই প্রকাশিত হতে পারবে না। 

সভায় উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আপনারা সঠিকভাবে উপস্থাপন করুন যাতে মানুষ ভোট দিতে যায় এবং হ্যাঁ ও না ভোটের যে বিষয়টি আছে যাতে মানুষ তাতে সঠিকভাবে বিবেচনা করে। আমরা ১৭ বছর যে অবস্থায় ছিলাম তার ঠিক পেছনে ফিরতে চাই তা কিন্তু নয়। আমরা তার থেকেও ভালো কিছু চাই। বর্তমান এবং পরবর্তী জেনারেশনের জন্য এই দেশে আমরা আরও ভালো কিছু চাই।      

সভায় জেলা প্রশাসক মিস তাছলিমা আক্তার সভাপতিত্বে করেন। 

এমআই/এসএন

Share this news on:

সর্বশেষ

img
মঞ্চে আলেমকে সম্মান জানাতে চেয়ার এগিয়ে দিলেন তারেক রহমান Jan 20, 2026
img
লঙ্কানদের ৫-১ গোলে পরাজিত করল বাংলাদেশ Jan 20, 2026
img
আবারও ছোটপর্দায় ফিরছেন সৌরভ Jan 20, 2026
img
বিপিএলের শেষ মুহূর্তে কার ডাকে খেলতে এসেছেন ওকস! Jan 20, 2026
img
১৩ বছর পর নতুন অ্যালবাম নিয়ে ফিরছেন বালাম Jan 20, 2026
img
জামায়াত-এনসিপিসহ ৪ দলকে সতর্ক করল ইসি Jan 20, 2026
img
খুলনায় জামায়াতসহ ৫ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার Jan 20, 2026
img
‘আমাদের ডিভোর্সই হয়নি’, হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে প্রসঙ্গে প্রথম স্ত্রী Jan 20, 2026
img
বিক্ষোভে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শুরু ইরানের Jan 20, 2026
img
জানা গেল ইলিয়াস কাঞ্চনের সবশেষ শারীরিক অবস্থা Jan 20, 2026
img
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ঘাটতি বেড়ে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা Jan 20, 2026
img
দ্বিতীয়বার বাবা হচ্ছেন ‘জওয়ান’ পরিচালক অ্যাটলি Jan 20, 2026
img
রমজানের আগেই এলপিজির সংকট কাটাতে জ্বালানি উপদেষ্টার নির্দেশনা Jan 20, 2026
img
দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ : আলী ইমাম মজুমদার Jan 20, 2026
img
বিশ্বকাপের আগে মন্থর উইকেটে খেলা নিয়ে লিটনের মন্তব্য Jan 20, 2026
img
পোস্টাল ব্যালট নিয়ে অনেকেই না বুঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন : সিইসি Jan 20, 2026
img
জনপ্রিয়তা দেখে প্রার্থী বদল করেও ক্ষান্ত হয়নি কিছু গোষ্ঠী : ডা. খালিদ Jan 20, 2026
img
শান্তিরক্ষা মিশনে কঙ্গো যাচ্ছেন বিমানবাহিনীর ৬২ সদস্য Jan 20, 2026
img
প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে: আইজিপি বাহারুল আলম Jan 20, 2026
img
পিএসসির সাবেক গাড়িচালক আবেদ আলীর ছেলে এখন কারাগারে Jan 20, 2026