মার্ক কার্নি গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে জটিল সম্পর্কের মধ্যেও সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে নতুন জোট গঠনে কানাডার আগ্রহের কথা জানান তিনি।
গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে নেয়ার লক্ষ্যে আরোপিত সম্ভাব্য শুল্কের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে কানাডা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মঙ্গলবার বলেন, এ ধরনের শুল্ক আরোপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে কার্নি বলেন, “গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে শুল্ক আরোপের বিরোধিতা করে কানাডা। আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আমরা লক্ষ্যভিত্তিক আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছি।”
এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। এসব দেশ ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছে।
মার্ক কার্নি গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে জটিল সম্পর্কের মধ্যেও সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে নতুন জোট গঠনে কানাডার আগ্রহের কথা জানান তিনি।
উল্লেখ্য, এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুক্ত করার হুমকি দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি মানচিত্র শেয়ার করেন, যেখানে কানাডা ও গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দেখানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্র বা ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করে কার্নি বলেন, “যদি পরাশক্তিগুলো নিজেদের ক্ষমতা ও স্বার্থের অবারিত অনুসরণে নিয়ম ও মূল্যবোধের ভানটুকুও ত্যাগ করে, তবে লেনদেনভিত্তিক কূটনীতি থেকে পাওয়া সুফল ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।”
ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ও ব্যাংক অব কানাডার সাবেক প্রধান কার্নি সম্প্রতি চীনের সঙ্গে একটি চুক্তি করেন। তিনি বলেন, কানাডার জন্য একটি বিস্তৃত আন্তর্জাতিক যোগাযোগজাল থাকা জরুরি। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সেই সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু সীমারেখা রয়েছে। তবে তার ভেতরেই জ্বালানি—পরিষ্কার ও প্রচলিত উভয় ক্ষেত্রেই—কৃষি এবং আর্থিক সেবায় পারস্পরিক লাভজনক বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।”
ইউটি/টিএ