গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক সংকট আরো গভীর হওয়া এবং জাপানের সরকারি ঋণবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বেড়েছে। এর ফলে সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং রুপার দামও প্রায় সর্বকালের রেকর্ড ছুঁই ছুঁই করছে। ২১ জানুয়ারি স্পট মার্কেটে সোনার দাম প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যায়।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অবস্থানরত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনা থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেননি।
এদিকে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন জনগণকে সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসনের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন, যদিও তিনি এটিকে খুব বেশি সম্ভাবনাময় মনে করেন না।
গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনার বিরোধিতা করায় যুক্তরাষ্ট্র জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেনসহ ইউরোপের আটটি দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছে। এতে করে বড় ধরনের বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘দাসত্ব ও রক্তের রাজনীতি’ এড়াতে ইউরোপকে আরো বেশি স্বনির্ভর হতে হবে।
অন্যদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, ‘নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে।’
দাভোসে এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দীর্ঘদিনের মিত্রতার সম্পর্ক কত দ্রুত অবনতি হয়েছে, তা স্পষ্ট করে তুলেছে। এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে। ডলারের মান কমেছে এবং সোনা- রুপার মতো নিরাপদ সম্পদের চাহিদা বেড়েছে।
একই সঙ্গে জাপানের সরকারি ঋণবাজারে বড় ধরনের ধস প্রধান অর্থনীতিগুলোর আর্থিক অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ আরো বাড়িয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা মুদ্রা ও সরকারি বন্ড এড়িয়ে চলছেন, যাকে বিশ্লেষকেরা ‘ডিবেসমেন্ট ট্রেড’ বলছেন।
টিডি সিকিউরিটিজের জ্যেষ্ঠ পণ্য কৌশলবিদ ড্যানিয়েল ঘালি এক নোটে বলেন, জাপানের পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে বাজারনির্ভর মুদ্রার অবমূল্যায়নের আশঙ্কা তৈরি করছে। তিনি বলেন, ‘সোনার এই উত্থান মূলত আস্থার বিষয়। আপাতত সেই আস্থা দুর্বল হয়েছে, কিন্তু পুরোপুরি ভাঙেনি।
যদি ভেঙে পড়ে, তাহলে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে।’
সূত্র : দ্য স্ট্রেইট টাইমস।
এমআই/এসএন