আজ প্রয়াত বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের জন্মদিন। সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর নাম, তাঁর কাজ আর তাঁর অসম্পূর্ণ স্বপ্নগুলো আজও অনুরাগীদের মনে একই রকম জীবন্ত। ১৯৮৬ সালের ২১ জানুয়ারি ভারতের বিহার রাজ্যের পাটনায় জন্ম নেওয়া সুশান্ত ছিলেন পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট এবং একমাত্র ভাই। পরিবারের আদরের সন্তান হিসেবে তাঁর ডাকনাম ছিল গুলশন।
ছোটবেলা থেকেই সুশান্ত ছিলেন ব্যতিক্রমী মেধার অধিকারী। অভিনয়ের ঝলক তখনও জীবনে আসেনি, কিন্তু পড়াশোনায় তিনি নিজের জায়গা আগেই তৈরি করে ফেলেছিলেন। পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে জাতীয় স্তরে সাফল্য, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সর্বভারতীয় পরীক্ষায় সপ্তম স্থান—সবই প্রমাণ করে তিনি কেবল তারকাখ্যাতির জন্য জন্মাননি, জন্মেছিলেন গভীর মননের এক মানুষ হিসেবে। তবু নিরাপদ ভবিষ্যৎ ছেড়ে অজানার টানে তিনি বেছে নেন অভিনয়ের পথ।
টেলিভিশনের পর্দায় তাঁর যাত্রা শুরু হলেও পরিচিতির বিস্তার ঘটে খুব অল্প সময়েই। একতা কাপুরের জনপ্রিয় ধারাবাহিক পবিত্র রিস্তা-তে মানব চরিত্রে অভিনয় করে তিনি হয়ে ওঠেন ঘরের ছেলে। সংযত, আবেগী, দায়িত্বশীল এক পুরুষের প্রতিচ্ছবি হয়ে তিনি জায়গা করে নেন দর্শকের হৃদয়ে।
চলচ্চিত্রে তাঁর অভিষেক ছিল আত্মবিশ্বাসে ভরা। চেতন ভগতের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত কাই পো চে ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি জানান দেন, তিনি দীর্ঘ দৌড়ের ঘোড়া। এরপর একের পর এক ছবিতে নিজেকে ভেঙেছেন, নতুনভাবে গড়েছেন। ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় আসে এম এস ধোনি দ্য আনটোল্ড স্টোরি ছবির মাধ্যমে। ভারতের প্রাক্তন অধিনায়কের চরিত্রে তাঁর অভিনয় শুধু জনপ্রিয়তা নয়, এনে দেয় সম্মানও। পরে ছিছোরে, কেদারনাথ ও সোনচিড়িয়া-তে তাঁর অভিনয় প্রমাণ করে, তিনি সহজ পথে হাঁটতে ভালোবাসতেন না।
ক্যামেরার বাইরের সুশান্ত ছিলেন আরও বিস্ময়কর। মহাকাশ, নক্ষত্র আর বিজ্ঞানের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল গভীর। নিজের টেলিস্কোপে শনি গ্রহের বলয় কিংবা বৃহস্পতির চাঁদ দেখা ছিল তাঁর নেশার মতো। বই পড়া, গিটার বাজানো, প্রোগ্রামিং—সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন জিজ্ঞাসু এক আত্মা, যিনি জীবনকে দেখতেন জানার চোখে।
২০২০ সালের ১৪ জুন মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজের বাসা থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধারের খবর নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা উপমহাদেশকে। অকালেই থেমে যায় এক উজ্জ্বল সম্ভাবনার যাত্রা। মৃত্যুর পর মুক্তি পাওয়া দিল বেচারা যেন হয়ে ওঠে তাঁর প্রতি শেষ বিদায়, চোখ ভেজানো এক স্মারক।
আজ তাঁর জন্মদিনে ফিরে ফিরে আসে সেই প্রশ্ন—আরও কত কিছু দেওয়ার ছিল তাঁর। উত্তর নেই। রয়ে গেছে কেবল কাজ, স্মৃতি আর এক অসমাপ্ত গল্প, যা সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়ে ওঠে।
এসএন