আধুনিক যুগের ব্যস্ত জীবনে অনেকেই এমন কিছু খাবারের খোঁজ করেন, যা অল্প পরিমাণে খেলেই শরীরের নানা উপকারে আসবে। ঠিক এমনই একটি সহজ এবং অত্যন্ত কার্যকর খাবার হলো কালো শুকনা আঙুর বা কালো কিশমিশ।
এই কালো কিশমিশ যদি সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে খাওয়া যায়, তাহলে এর উপকারিতা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। প্রাচীন আয়ুর্বেদ থেকে আধুনিক পুষ্টিবিদ্যা সব জায়গাতেই ভেজানো কালো কিশমিশকে একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক টনিক হিসেবে ধরা হয়।
কালো কিশমিশ
কালো কিশমিশে রয়েছে আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফাইবার এবং নানা ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। পানিতে ভিজিয়ে রাখলে কিশমিশের খোসা নরম হয়ে যায় এবং শরীর সহজেই এর পুষ্টিগুণ শোষণ করতে পারে। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠে ভেজানো কালো কিশমিশ খাওয়াকে অনেক বিশেষজ্ঞই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হিসেবে মানেন।
হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে কালো কিশমিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এতে থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। নিয়মিত ভেজানো কালো কিশমিশ খেলে রক্তনালির ওপর চাপ কমে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই হ্রাস পায়।
উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য এটি একটি প্রাকৃতিক সহায়ক খাবার হতে পারে।
রক্তাল্পতা বা শরীরে রক্তের ঘাটতির সমস্যায় ভুগছেন, এমন মানুষের জন্য কালো কিশমিশ বিশেষভাবে উপকারী।
কালো কিশমিশ আয়রনের একটি ভালো উৎস। সকালে খালি পেটে ভেজানো কিশমিশ খেলে আয়রন শোষণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ধীরে ধীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা উন্নত হয় এবং দুর্বলতা ও ক্লান্তি কমে।
ভেজানো কালো কিশমিশ শরীরকে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়। এতে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা যেমন গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ খুব দ্রুত শরীরে শক্তি সরবরাহ করে।
যারা সকালে দুর্বলতা অনুভব করেন বা সারা দিন কাজের জন্য এনার্জি চান, তাদের জন্য এটি একেবারে আদর্শ। জিমে যাওয়ার আগে বা দীর্ঘ সময় কাজের প্রস্তুতির জন্যও ভেজানো কিশমিশ উপকারী হতে পারে।
হজমশক্তি বাড়াতেও কালো কিশমিশের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এতে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার থাকে, যা অন্ত্রের গতি স্বাভাবিক রাখে। নিয়মিত ভেজানো কালো কিশমিশ খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা অনেকটাই কমে যায়। যারা দীর্ঘদিন ধরে পেট পরিষ্কার না হওয়ার সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য এটি একটি সহজ ও প্রাকৃতিক সমাধান হতে পারে।
ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও ভেজানো কালো কিশমিশ উপকারী বলে মনে করা হয়। যদিও কিশমিশে প্রাকৃতিক শর্করা রয়েছে, তবে পরিমিত পরিমাণে খেলে এটি বিপাকক্রিয়া উন্নত করে।
ভেজানো কিশমিশ দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকার অনুভূতি দেয়, ফলে অকারণে খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। এর ফলে ধীরে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
ত্বক ভালো রাখা এবং বার্ধক্যের লক্ষণ কমাতেও কালো কিশমিশ বেশ কাজের। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি শরীরের ভেতরে থাকা ক্ষতিকর ফ্রি-র্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে লড়াই করে। নিয়মিত ভেজানো কিশমিশ খেলে ত্বক উজ্জ্বল থাকে, বলিরেখা দেরিতে দেখা দেয় এবং সামগ্রিকভাবে বয়সের ছাপ কম পড়ে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ভেজানো কালো কিশমিশ একটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী প্রাকৃতিক খাবার। প্রতিদিন সকালে কয়েকটি ভেজানো কালো কিশমিশ খেলে হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে, রক্তের ঘাটতি পূরণ হয়, হজমশক্তি বাড়ে এবং শরীরে নতুন শক্তির সঞ্চার হয়। তবে ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এমকে/এসএন