গত বছর অক্টোবরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশের কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল আফগানিস্তান। এরপর থেকে এই সংস্করণে উড়ছে আফগানরা। জিম্বাবুয়েকে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশের পর একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে কাতারকে হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হয়েছিল রশিদ খানের দল। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তান।
মুজিব উর রহমানের হ্যাটট্রিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টানা দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নিয়েছে আফগানিস্তান।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আধিপত্য বজায় রেখে দ্বিতীয় টি–টোয়েন্টিতে ৩৯ রানে জয় পেয়েছে আফগানিস্তান। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ নিশ্চিত করল তারা।
টস জিতে আগে ব্যাট করা আফগানিস্তান দারবিশ রাসুলির ৩৯ বলে ৬৮ ও সেদিকুল্লাহ আতালের ৪২ বলে ৫৩ রানের ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রান সংগ্রহ করে।
জবাব দিতে নেমে ১৮.৫ ওভারে ১৫০ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হ্যাটট্রিক করে ক্যারিবীয়দের গুটিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মুজিব-উর রহমান। টানা পাঁচ বলে চার উইকেট শিকার করেছেন এই রহস্য স্পিনার। রশিদ খান ও করিম জানাতের পর তৃতীয় আফগান বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে হ্যাটট্রিক করলেন মুজিব।
এই নিয়ে টানা ৬ ম্যাচ জিতে আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতিটা ভালোভাবে সেরে নিলো রশিদ খানের দল। আজ (২২ জানুয়ারি) রাতে আফগানদের সামনে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হোয়াইটওয়াশের সুযোগ।
এদিন ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় আফগানিস্তান। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই দুই ওপেনার আউট হন। রহমানউল্লাহ গুরবাজ শামার জোসেফের বলে ১ রান করেই ফেরেন। ভালো শুরু পাওয়া ইব্রাহিম জাদরানকে (১৭ বলে ২২) বোল্ড করেন ম্যাথিউ ফোর্ডে। এরপর ইনিংস গুছিয়ে নেন সেদিকুল্লাহ আতাল ও দারবিশ রসুলি। সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসনের মিশেলে তৃতীয় উইকেটে তারা গড়েন গুরুত্বপূর্ণ ১১৫ রানের জুটি।
রসুলি আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিয়ে মাত্র ২৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন, আর আতাল ধীরে সেট হয়ে মাঝের ওভারগুলোতে গতি বাড়ান। দু’জনই অর্ধশতক পেলেও টানা দুই ওভারে তাদের আউটে কিছুটা ছন্দপতন ঘটে। রাসুলি ৩৯ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৬৮ রান করে রামোন সায়মন্ডসের বলে এবং আতাল ৪২ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৩ রান করে ফোর্ডের বলে আউট হন।
তবে শেষ দিকে আজমতুল্লাহ ওমরজাই (১৩ বলে ২৬) ও মোহাম্মদ নবী (৫ বলে ৭) গুদাকেশ মোটির ব্যয়বহুল শেষ ওভারের পুরো সুযোগ কাজে লাগিয়ে ১৯ রান তুললে আফগানিস্তান শক্ত সংগ্রহ পায়। এদিকে ফিল্ডিংয়েও ভুগেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, চারটি ক্যাচ ফেলে তারা। ২৫ রানে ২ উইকেট শিকার করেন ফোর্ডে।
জবাবে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপের মুখে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইব্রাহিম জাদরানের তীক্ষ্ণ থ্রোতে রানআউট হন এলিক আথানাজে (১২ বলে ৮), আর পাওয়ারপ্লেতে আসে মাত্র ২৯ রান। এরপর অষ্টম ওভারের শেষ দুই বলে ইভিন লুইস (১৭ বলে ১৩) ও জনসন চার্লসকে (গোল্ডেন ডাক) ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলেন মুজিব উর রহমান।
শিমরন হেটমায়ার কিছুক্ষণ লড়াইয়ের আভাস দেন। নূর আহমদ ও মোহাম্মদ নবীর বিপক্ষে একের পর এক ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি ১৭ বলে ৪৬ রান করেন। অধিনায়ক ব্র্যান্ডন কিংকে সঙ্গে নিয়ে ৩৩ বলে ৬৮ রানের জুটি গড়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হেটমায়ারকে ফিরিয়ে দিয়ে সেই জুটি ভাঙেন ফজলহক ফারুকি।
এরপর পুরো নিয়ন্ত্রণ নেয় আফগানিস্তান। মুজিব উর রহমান ফিরে এসে দারুণ হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। ১৬তম ওভারের প্রথম বলে ব্রেন্ডন কিংকে আউট করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। ৪১ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় ৫০ রান করেন কিং। কুইন্টন স্যাম্পসন ক্রিজে এসে প্রথম বলে ২ রান নিলেও পরের বলেই বোল্ড হয়ে যান। মুজিব ২১ রানে ৪ উইকেট শিকার করে স্পেল শেষ করেন।
রশিদ খান ও ওমরজাইয় দারুণ সঙ্গ দেন মুজিবকে। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৮.৫ ওভারে ১৫০ রানে অলআউট হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফারুকি ও ওমরজাই ২টি করে উইকেট শিকার করেন। রশিদ নেন ১ উইকেট।
এসকে/এসএন