মানুষ ফ্যামিলি কার্ড ও ফ্ল্যাট চায় না, নিরাপদ জীবন চায়: নাহিদ ইসলাম

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের দশ দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, যে ২ থেকে ৩ হাজার টাকার ফ্যামিলি কার্ডের কথা বিএনপি বলছে, তা কারা পাবেন? যাদের প্রয়োজন তারা পাবেন কি? নাকি ২ হাজার টাকার কার্ড পেতে এক হাজার টাকা ঘুষ দিতে হবে?

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা-১৫ আসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক জনসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, একদিকে তারা কার্ড দেওয়ার কথা বলছেন, আরেক দিকে ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দিচ্ছে। যাদের মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে তারা তো আবার ক্ষমতায় গিয়ে লুট করবে। জনগণের টাকা মেরে খাবে, এমন ব্যক্তিদেরই নমিনেশন দিয়েছে দলটি।

তারেক রহমানের বস্তিবাসীদের উদ্দেশ্যে ফ্ল্যাট দেওয়ার ঘোষণাকে বস্তিবাসীদের উচ্ছেদের ইঙ্গিত হিসেবে বর্ণনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বস্তিবাসী ফ্ল্যাট চায় না। তারা চায় নিরাপদ জীবন, যা বস্তিতে থেকেও সম্ভব। অতীতে যারা বস্তিবাসীকে ফ্ল্যাট দিতে চেয়েছেন, তারা নির্বাচনের পর তাদের উচ্ছেদ করতে নেমেছেন। বস্তুিবাসী এসব মিথ্যা আশ্বাস এখন বুঝতে পারে। তারা ফ্ল্যাটের আশায় নয় দেশের স্বার্থে ন্যায়ের পক্ষে ভোট দেবে।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হতে হবে। অন্য কোনো প্ল্যান কাজে আসবে না। নির্বাচন কমিশনকে স্বচ্ছ থাকতে হবে। কোনো দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া যাবে না। আমরা নির্বাচন কমিশনকে স্বরণ করিয়ে দিতে চাই, আমরা মাঠে আছি। কোনো অন্যায় সহ্য করা হবে না। ইনসাফের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এবারের নির্বাচন কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন নয়। একটি গণভোটও আছে। আমরা সবাই গণভোটে হ্যাঁ দেব। বৈষম্য, চাঁদাবাজি, অন্যায়, জুলুম ও আধিপত্যবাদকে না বলব। এজন্য আমাদেরকে গণভোটে হ্যাঁ দিতে হবে।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ-চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আমরা যে লক্ষ্য নিয়ে আন্দোলন করেছিলাম, সেই লক্ষ্য অনেকাংশেই ব্যর্থ হয়েছে। গণভোটে হ্যা বিজয়ী করে আমরা সেই আন্দোলনকে বিজয়ের উল্লাসে রূপান্তর করব।

এমআর/টিকে 

Share this news on:

সর্বশেষ

img
জামায়াতে ইসলামী এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে ভালো করবে, বললেন মার্কিন কূটনীতিক Jan 22, 2026
img
হঠাৎ ক্ষোভে ফুঁসলেন পরীমনি, রহস্য কী? Jan 22, 2026
img
নরেন্দ্র মোদি কখনোই ‘চা-ওয়ালা’ ছিলেন না, সবই নাটক: কংগ্রেস সভাপতি Jan 22, 2026
img
কুমিল্লায় আইনজীবীর বাসা থেকে উদ্ধার বিদেশি পিস্তল ও গুলি Jan 22, 2026
img
চোখের তীক্ষ্ণ চাহনি, আবেদনময়ী লুকে নজর কাড়লেন জয়া আহসান Jan 22, 2026
img
জামিন পাননি সাংবাদিক আনিস আলমগীর Jan 22, 2026
img
২ হাজার টাকায় একটা পরিবারের কোনো সমাধান হবে, প্রশ্ন জামায়াত আমিরের Jan 22, 2026
img
জামায়াত আমিরকে ‘অন্যতম বীর সেনাপতি’ আখ্যা নাহিদের Jan 22, 2026
img

হবিগঞ্জে তারেক রহমান

দিল্লিও নয়, পিন্ডিও নয়, সবার আগে বাংলাদেশ Jan 22, 2026
img
মায়ের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে নুরের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু Jan 22, 2026
img
২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে : বাণিজ্য উপদেষ্টা Jan 22, 2026
img
তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের ৫০ জন যোগ দিলো বিএনপিতে Jan 22, 2026
img
হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ফজলুর রহমান Jan 22, 2026
img
তাহাজ্জুদ পড়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের Jan 22, 2026
img
ইউনূস সাহেব, আমার স্বামী হত্যার বিচার কোথায়? হাদির স্ত্রীর প্রশ্ন Jan 22, 2026
img
টানা রেকর্ডের পর অবশেষে কমল স্বর্ণের দাম Jan 22, 2026
img
জাতির সাফল্যের চাবিকাঠি জনগণের হাতে : আলী রীয়াজ Jan 22, 2026
img
বিদ্যার দেবী সরস্বতীর পূজা আগামীকাল Jan 22, 2026
img
জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়নে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় সেনাপ্রধান Jan 22, 2026
img
শাকিবের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী Jan 22, 2026