টানা তিন দফা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে সামান্য পতন দেখা গেছে। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে বৈশ্বিক উত্তেজনা কমে আসায় বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে, যার ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি, নিকট ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সুদহার কমার সম্ভাবনা কমে যাওয়াও স্বর্ণের দামে চাপ সৃষ্টি করেছে। খবর রয়টার্সের।
গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ১২টা ১ মিনিটে স্পট স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৮২৫ দশমিক ২২ ডলারে দাঁড়ায়। দিনের শুরুতে লেনদেনের একপর্যায়ে দাম প্রায় ১ শতাংশ পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল। একই সময়ে ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার্সের দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৮২৭ দশমিক ৮০ ডলারে লেনদেন হয়।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ১২ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৮৮৭ দশমিক ৮২ ডলারে পৌঁছে স্বর্ণ সর্বকালের রেকর্ড গড়েছিল। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়।
অ্যাকটিভট্রেডসের বিশ্লেষক রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ফিরে আসায় নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা কমছে। একই সঙ্গে মার্কিন ডলারের সামান্য শক্তিশালী হওয়াও স্বর্ণের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে সরে আসেন। তিনি বলপ্রয়োগের সম্ভাবনা নাকচ করেন এবং ডেনমার্কের এই ভূখণ্ড নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে একটি সমঝোতা কাছাকাছি বলে ইঙ্গিত দেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা ফেডারেল রিজার্ভ গভর্নর লিসা কুককে বরখাস্ত করার ট্রাম্পের উদ্যোগ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প জানান, তিনি ফেডের নতুন চেয়ারম্যান বাছাইয়ের কাছাকাছি এবং হোয়াইট হাউসের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হাসেটকে বর্তমান পদেই রাখার ধারণাটি তার পছন্দ।
রয়টার্সের এক জরিপ অনুযায়ী, ফেড চলতি প্রান্তিকে সুদহার অপরিবর্তিত রাখতে পারে এবং সম্ভবত মে মাসে চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত হার অপরিবর্তিত থাকবে।
বিনিয়োগকারীরা এখন সাপ্তাহিক বেকারভাতা দাবির তথ্য এবং নভেম্বর মাসের পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচারস (পিসিই) ডেটার দিকে নজর রাখছেন, যা ফেডের পছন্দের মূল্যস্ফীতি সূচক।
হেরাউস প্রিসিয়াস মেটালসের গ্লোবাল হেড অব ট্রেডিং হেনরিক মার্ক্স বলেন, স্বর্ণের সামগ্রিক প্রবণতা এখনো ঊর্ধ্বমুখী। স্বল্পমেয়াদেও আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ডলারের বেশি, এমনকি ৫ হাজার ২০০ ডলার পর্যন্ত দাম ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে দেশের বাজারে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) স্বর্ণ ভরিতে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকায় বিক্রি হবে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) স্বর্ণ ভরিতে ৮ হাজার ৩৩৯ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা। যা দেশের বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর সর্বোচ্চ দাম। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪০ হাজার ৯৭৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৬ হাজার ৫৬৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
এমআর/টিকে