আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গত এক বছরে প্রত্যেক দিন গড়ে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তারের পর নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়ে সৌদি আরব।
সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এই খবর জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইংরেজি দৈনিক গালফ নিউজ।
লাখ লাখ পর্যটক, হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য আগত মুসলিম তীর্থযাত্রী থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে ব্যবসায়ী এবং ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের অবৈধ অভিবাসন ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঠেকানোর প্রচেষ্টা জোরদার করছে সৌদি আরব।
বৈধ উপায়ে দর্শনার্থীদের জন্য সৌদি আরব উন্মুক্ত থাকলেও দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, ভিসার মেয়াদ অতিক্রমের পর সীমিতসংখ্যক দর্শনার্থী অবৈধভাবে কাজ করা কিংবা অননুমোদিত সীমান্তপথ দিয়ে দেশে প্রবেশের মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থার অপব্যবহার করার চেষ্টা করছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দেশজুড়ে প্রায় প্রতি সপ্তাহে মাঠপর্যায়ের অভিযান চালিয়ে আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করছে।
সৌদির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর দেশজুড়ে চালানো অভিযানে ৭ লাখ ৮২ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; যা দৈনিক গড়ে ২ হাজার ১০০ জনেরও বেশি।
গ্রেপ্তারকৃতদের বড় অংশকে অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার সময় ধরা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ইয়েমেনি নাগরিকের সংখ্যাই বেশি।সৌদি সীমান্তের সঙ্গে ইয়েমেনের নিকটবর্তী অবস্থানের কারণে দেশটির নাগরিকরা অবৈধ উপায়ে সৌদিতে প্রবেশের চেষ্টা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়াও গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ইথিওপীয় ও অন্যান্য দেশের নাগরিকরাও ছিলেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ বলেছে, অনিয়মিত পথে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করার সময়ও বহু মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আবাসন ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা আইনের ব্যত্যয় ঘটানোয় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। কেবল গত বছরেই প্রায় ৪ লাখ ৫৩ হাজার ২০০ জনকে সৌদি আরব থেকে নিজ নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করা হয়েছে; যা দৈনিক গড়ে প্রায় ১ হাজার ২৪০ জন।
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বারবার সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, অবৈধ উপায়ে প্রবেশের সময় সহায়তা, অপরাধীদের পরিবহন, আশ্রয় দেওয়া অথবা যেকোনো ধরনের সহায়তা বা সেবাপ্রদানকারীদেরও কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ ১৫ বছর কারাদণ্ড, ১০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানার কথা বলেছে সৌদি। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলেছে, অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন কিংবা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও দণ্ডাদেশ প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হবে।
সূত্র: গালফ নিউজ।
এমআর/টিকে