© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

দিল্লির সংবাদ সম্মেলনে হাসিনার অডিও বার্তা, ড. ইউনূসকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা

শেয়ার করুন:
দিল্লির সংবাদ সম্মেলনে হাসিনার অডিও বার্তা, ড. ইউনূসকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:২৪ এএম | ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬
ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর এই প্রথম নয়া দিল্লিতে প্রকাশ্য কোনো অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে আয়োজিত ‘সেভ ডেমোক্র্যাসি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।

বক্তব্যে শেখ হাসিনা নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘অবৈধ ও সহিংস’ আখ্যা দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ এখন ‘সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও গণতন্ত্রের নির্বাসনে’ নিমজ্জিত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, বিদেশি স্বার্থে পরিচালিত একটি ‘পুতুল সরকার’ বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শেখ হাসিনার ভাষায়, “বাংলাদেশ আজ এক গভীর অতল গহ্বরের কিনারায় দাঁড়িয়ে।”

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাবেক একাধিক মন্ত্রী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন। যদিও শেখ হাসিনা নিজে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন না, তবে তার রেকর্ডকৃত অডিও বক্তব্য ভরা মিলনায়তনে সম্প্রচার করা হয়।

বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তাকে একটি ‘সুনিপুণভাবে সাজানো ষড়যন্ত্রের’ মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই দেশে সন্ত্রাসের যুগ শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার অভিযোগ, মানবাধিকার লঙ্ঘন চরমে পৌঁছেছে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে এবং নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, রাজধানী থেকে গ্রাম পর্যন্ত সর্বত্র লুটপাট, চাঁদাবাজি ও দলবদ্ধ সহিংসতা চলছে। নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তির কোনো নিরাপত্তা নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বক্তব্যের একটি বড় অংশজুড়ে অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক শক্তির প্রতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, শহীদদের রক্তে লেখা সংবিধান পুনরুদ্ধার করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আওয়ামী লীগকে দেশের একমাত্র বৈধ গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের সমর্থন নিয়ে দলটি আবারও ‘ছিনিয়ে নেওয়া সমৃদ্ধ স্বদেশ’ ফিরিয়ে আনবে।

বক্তব্যে তিনি পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে—ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসন অপসারণ, সহিংসতা ও নৈরাজ্য বন্ধ, নারী ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে আইন অপব্যবহার বন্ধ এবং গত এক বছরের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা।

সমর্থকদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের পাশে রয়েছে এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের কণ্ঠস্বর শুনতে ব্যর্থ হয়েছে।

ইউটি/টিএ

মন্তব্য করুন