এই ভালো এই খারাপ। এই চূড়ায় তো এই তলানিতে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে সময়টা এভাবেই ভালো-মন্দের মিশেলে কাটছে কাসেমিরোর। সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি হতে চলেছে আর মাস চারেক পরে। এই মৌসুম শেষেই ক্লাব ছেড়ে যাচ্ছেন ৩৩ বছর বয়সী মিডফিল্ডার।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি মৌসুম শেষে। যদিও এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ আছে চুক্তিতে, তবে ক্লাব সেটি করতে আগ্রহী নয় বলেই সূত্রের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ভবিষ্যতে তাকিয়ে স্কোয়াড ঢেলে সাজানোর যে পরিকল্পনা ক্লাবের, সেটির অংশ হিসেবেই কাসেমিরোকে ধরে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেছে বেশ আগেই। ব্রাজিলিয়ান তারকার অনুরোধে সেটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলো বৃহস্পতিবার।
২০১০ সালে পেশাদার ফুটবলে কাসেমিরোর বিচরণ শুরু সাও পাউলোর হয়ে। ২০১৩ সালে তিনি পাড়ি জমান রিয়াল মাদ্রিদে। সেখানে ৯ বছরের গৌরবদীপ্ত পথচলায় ৫টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ ১৮টি ট্রফি জেতেন তিনি। রেয়ালের মাঝমাঠের ভরসা হয়ে থাকের বছরের পর বছর। ২০২২ সালে চার বছরের চুক্তিতে নাম লেখান তিনি ইউনাইটেডে।
নিজের সেরা সময় ততদিনে প্রায় পেছনে ফেলে এসেছেন তিনি। ইউনাইটেডেরও দুঃসময় চলছিল। দুটি মিলিয়ে রেয়ালের কাসেমিরোকে পাওয়া যায়নি ইউনাইটেডের জার্সিতে। এর মধ্যেও কিছু স্মরণীয় পারফরম্যান্স তার আছে। ২০২৩ সালে নিউক্যাসলকে হারিয়ে লিগ কাপ জয়ের ফাইনালে হেড থেকে গোল করেছিলেন তিনি। পরের বছর ক্লাবের হয়ে জেতেন এফএ কাপ।
রিয়ালের মতো সাফল্যময় ও দীর্ঘ সময় না হলেও কাসেমিরো বললেন, এই ক্লাবকে তিনি আজীবন লালন করবেন সযত্নে। বিদায়ের আগে বাকি সময়টুকুও স্মরণীয় করে রাখতে চান তিনি।
“গোটা জীবন আমি ম্যানচেস্টার ইউনাটেডকে হৃদয়ে বয়ে নেব। অনিন্দ্য সুন্দর এই স্টেডিয়ামে পা রাখার পর প্রথম দিনটি থেকেই ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের প্যাশন ও ভালোবাসা আমি অনুভব করেছি, যা এই স্পেশাল এই ক্লাবের সমর্থকদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিয়েছি।”
“এখনই বিদায় বলার সময় হয়নি। আগামী চার মাসে আরও অনেক স্মৃতি গড়ার পালা আছে। একসঙ্গে আরও অনেক লড়াই বাকি, আমার সবটুকু মনোযোগ থাকবে ক্লাবকে সফল করে তুলতে সবকিছু উজাড় করে দেওয়ার চেষ্টায়।”
পরে সামাজিক মাধ্যমেও আবেগময় ভিডিওতে ক্লাবের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
এমআর/এসএন