হাতেগোনা কয়েকটি ছবিতেই দর্শকের মনে ছাপ ফেলেছিলেন তিনি। বিড়ালাক্ষি সৌন্দর্য, বিদেশি উচ্চারণ আর রহস্যময় উপস্থিতিতে বলিপাড়ায় আলাদা করে নজর কেড়েছিলেন লিজ়া রানি রে। কেরিয়ারের শুরুতেই জনপ্রিয় পরিচালকের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন, তার পরে নাম জড়াল সঞ্জয় দত্তের সঙ্গেও। অথচ সব আলো, বিতর্ক আর সম্ভাবনাকে পিছনে ফেলে এক সময় হঠাৎ করেই বলিপাড়া থেকে যেন উধাও হয়ে গেলেন এই অভিনেত্রী।
কানাডার টরন্টোয় জন্ম লিজ়ার। বাবা বাঙালি, মা বিদেশিনি। ছোটবেলা থেকেই সিনেমার সঙ্গে আলাপ। বাবার হাত ধরেই সত্যজিৎ রায় থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ছবির জগতে প্রবেশ। বিদেশেই পড়াশোনা শেষ করেন তিনি। মেধাবী ছাত্রী হিসেবে কম সময়েই পড়াশোনা শেষ করেছিলেন। ছুটি কাটাতে ভারতে আসার সময়ই শুরু হয় মডেলিং। কিশোরী বয়সে একটি নামী সংস্থার বিজ্ঞাপনে কাজ করে প্রথম বার আলোচনায় আসেন তিনি। তার পর আবার ফিরে যান বিদেশে।
পরিস্থিতি বদলায় মায়ের দুর্ঘটনার পরে। রোজগারের তাগিদে ভারতে ফিরে আসেন লিজ়া। নব্বইয়ের দশকের শুরুতেই দেশের প্রথম সারির মডেলদের তালিকায় জায়গা করে নেন তিনি। বিজ্ঞাপন, মিউজ়িক ভিডিয়ো, র্যাম্প সব মিলিয়ে দ্রুত পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। ২০০১ সালে বিক্রম ভট্টের পরিচালনায় মুক্তি পায় ‘কসুর’। এই ছবির হাত ধরেই বলিপাড়ায় পা রাখেন লিজ়া। যদিও স্পষ্ট হিন্দি বলতে না পারায় তাঁর চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছিলেন অন্য অভিনেত্রী।
এই ছবির সময় থেকেই শুরু হয় ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জল্পনা। পরিচালকের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত। পরে শোনা যায়, সঞ্জয় দত্তের সঙ্গেও নাকি ঘনিষ্ঠতা ছিল তাঁর। যদিও এই সমস্ত সম্পর্কের কথা বারবার অস্বীকার করেছেন লিজ়া। জানিয়েছেন, সঞ্জয়ের পরিবারের সঙ্গে পরিচয় থাকলেও প্রেমের সম্পর্ক ছিল না।
কেরিয়ারের মোড় ঘোরে দীপা মেহতার ছবিতে কাজ করার পর। অভিনয়ের প্রস্তুতি নিতে বিদেশে পাড়ি দেন তিনি। লন্ডনে অভিনয়ের পাঠ শেষ করেই সুযোগ পান ‘ওয়াটার’ ছবিতে। ২০০৫ সালে মুক্তির পর আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসা পায় এই ছবি। লিজ়ার অভিনয়ও নজর কাড়ে বিশ্ব দরবারে। তার পর আমেরিকা ও ইউরোপে একের পর এক কাজ। বিদেশি ছবির পাশাপাশি সঞ্চালনাও করতে দেখা যায় তাঁকে।
এই সময়েই জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ ধাক্কা। ধরা পড়ে বিরল রক্ত ক্যানসার। চিকিৎসার সময় কাজ হারান তিনি। কেমোথেরাপির পরে চুল ঝরে যাওয়ায় পরচুলা ছেড়ে টাক মাথায় ঘুরে বেড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। সেই সাহসী সিদ্ধান্তও শিরোনামে আসে। অবশেষে ক্যানসারকে হার মানিয়ে আবার কাজে ফেরেন লিজ়া।
পরবর্তী সময়ে ওয়েব সিরিজ়, বই লেখা, সমাজমাধ্যমে সক্রিয়তা সব মিলিয়ে নিজস্ব পথে এগিয়ে গিয়েছেন তিনি। বিয়ে, যমজ কন্যার জন্ম, নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ জীবনের প্রতিটি অধ্যায় নিজস্ব সিদ্ধান্তেই সাজিয়েছেন লিজ়া। বলিপাড়া ছেড়ে সরে যাওয়াও ছিল তাঁরই পছন্দ। আজও তাই রহস্য, সাহস আর স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে রয়ে গিয়েছেন লিজ়া রানি রে।
পিআর/টিএ