দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার মেগাস্টার কে: রজনীকান্ত নাকি চিরঞ্জীবী!
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৩১ এএম | ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬
দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে সবচেয়ে বড় তারকা কে-এই প্রশ্ন প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দর্শকের আবেগে আগুন জ্বালিয়ে রেখেছে। একদিকে রজনীকান্ত, অন্যদিকে চিরঞ্জীবী-দুজনেই নিজ নিজ সময়ে গড়ে তুলেছেন এমন এক তারকাখ্যাতি, যা কেবল সিনেমার পর্দায় সীমাবদ্ধ নয়, ছড়িয়ে পড়েছে সমাজ ও সংস্কৃতির গভীরে।
রজনীকান্তের নাম উচ্চারিত হলেই দর্শকের মনে ভেসে ওঠে উন্মাদনার ছবি। অনন্য স্টাইল, বিস্তৃত জনপ্রিয়তা এবং কয়েক দশক ধরে অটল তারকাসত্তা তাঁকে সাধারণ অভিনেতার গণ্ডি ছাড়িয়ে এক অনন্য ঘটনায় পরিণত করেছে। সাধারণ জীবন থেকে উঠে এসে এশিয়ার সুপারস্টার হয়ে ওঠার তাঁর যাত্রা আজও কিংবদন্তি হিসেবে বিবেচিত। ভাষা ও সংস্কৃতির সীমা পেরিয়ে তাঁর আকর্ষণ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। গণমানুষের নায়ক হিসেবে রজনীকান্তের প্রভাব দক্ষিণ ভারতের বাইরেও বিস্তৃত, যা তাঁকে ভিন্ন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

অন্যদিকে চিরঞ্জীবী ছিলেন তেলুগু চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের প্রতীক। নৃত্য, অভিনয় ও দর্শক আকর্ষণের ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা তাঁকে তেলুগু দর্শকের হৃদয়ে অনন্য আসনে বসিয়েছে। আশির দশক ও নব্বই দশকে বক্স অফিসে তাঁর আধিপত্য ছিল প্রশ্নাতীত। সময়ের বিরতির পর আবারও বড় পর্দায় ফিরে এসে তিনি প্রমাণ করেছেন, দর্শকের সঙ্গে তাঁর আবেগী সম্পর্ক এখনও অটুট। তেলুগু চলচ্চিত্রে চিরঞ্জীবীর উপস্থিতি কেবল তারকাখ্যাতি নয়, বরং এক সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ।
দুই মহাতারকার তুলনায় সিদ্ধান্ত সহজ নয়। তবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও আন্তর্জাতিক প্রভাবের কারণে অনেকের চোখে রজনীকান্ত এগিয়ে থাকলেও, তেলুগু চলচ্চিত্রের গর্ব ও হৃদয়ের আসন চিরঞ্জীবীর দখলেই রয়েছে। শেষ পর্যন্ত বলা যায়, তাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বী নন, বরং নিজেদের সময় ও ধারাকে সংজ্ঞায়িত করা দুই যুগপুরুষ।
টিজে/টিএ