নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল বাংলাদেশ। আইসিসিকে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের জন্য অনুরোধ করেছিল বিসিবি।
তবে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে যুক্ত করেছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আইসিসির এমন সিদ্ধান্ত’র সমালোচনা ক্রিকেট বিশ্বজুড়ে। ‘দ্বিমুখী নীতি’ অনুসরণ করে খেলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
গত শনিবার বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে স্থলাভিষিক্ত করে নতুন সূচি ঘোষণা করে আইসিসি। এ ঘটনাকে বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য এক ‘হতাশাজনক মুহূর্ত’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সংগঠন ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ)। সংগঠনটি বলছে, খেলাটিকে বিভক্ত না করে ঐক্যবদ্ধ করতে স্টেকহোল্ডারদের এখন একযোগে কাজ করার সময় এসেছে।
রোববার বিবৃতিতে ডব্লিউসিএ’র প্রধান নির্বাহী টম মফ্যাট বলেন, ‘টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের নাম প্রত্যাহার এবং ক্রিকেটের শীর্ষ এই আসরে একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের অনুপস্থিতি আমাদের খেলা, বাংলাদেশের ক্রিকেটার ও সমর্থকদের জন্য এক বেদনার মুহূর্ত। বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবার অবকাশ রয়েছে।’
ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে ম্যাফট বলেন, ‘বিভেদ বা বর্জনকে চেপে বসতে না দিয়ে আমরা ক্রিকেট বিশ্বের নীতি-নির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন গভর্নিং বডি, লিগ ও ক্রিকেটারসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে মিলে খেলাটিকে ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ করেন।’
ম্যাফট আরও বলেন, ‘ক্রিকেটে বিভিন্ন চুক্তি মেনে না চলা এবং ক্রিকেটার ও তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার অভাব নিয়ে ডব্লিউসিএ উদ্বিগ্ন। এটি বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের বর্তমান পরিচালনা পদ্ধতির বড় ধরনের ত্রুটিগুলোই সামনে আনছে। এসব সমস্যার সমাধান না হলে খেলার প্রতি আস্থা ও ঐক্য নষ্ট হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
আইসিসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক ক্রিকেটাররাও। এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেনে পাকিস্তানের কিংবদন্তি সাবেক শহীদ আফ্রিদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের খেলোয়াড় এবং তাদের কোটি কোটি ভক্ত সম্মান পাওয়ার যোগ্য- দ্বিমুখী নীতি নয়। আইসিসির উচিত সেতু তৈরি করা, তা পুড়িয়ে ফেলা নয়।’
২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা অজুহাতে ভারত সেখানে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে আইসিসি ভারতের জন্য ‘হাইব্রিড মডেল’ গ্রহণ করে, যেখানে ভারতের ম্যাচগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। তার আগে এশিয়া কাপও একইভাবে হাইব্রিড মডেলে খেলে ভারত।
সে বিষয়টি সামনে এনে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক কিংবদন্তি পেসার জেসন গিলেস্পি কড়া সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘আইসিসি কি কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছে যে কেন বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে খেলতে পারল না? আমার মনে পড়ছে, ভারত পাকিস্তানে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল এবং তাদের সেই ম্যাচগুলো পাকিস্তানের বাইরে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কেউ কি এটার কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে পারেন?’
নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। এমনকি পাকিস্তান বিশ্বকাপ বয়কট করবে বলেও হুমকি দিয়েছেন। বলেন,‘বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আমি আইসিসির বোর্ড সভাতেও একই কথা বলেছি। আপনার দ্বিমুখী নীতি থাকতে পারে না, যেখানে একটি দেশ যখন খুশি যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং অন্য একটি দেশের ক্ষেত্রে তার সম্পূর্ণ উল্টোটা করা হয়। পাকিস্তানের সরকার আমাদের যে নির্দেশনা দেবে, আমাদের অবস্থানও (বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে) সেটাই হবে। প্রধানমন্ত্রী এখন পাকিস্তানে নেই।
তিনি ফিরলে আমি আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আপনাদের জানাব। এটা সরকারের সিদ্ধান্ত।’
নাকভি আরও বলেন, ‘সরকার যদি পাকিস্তানকে বিশ্বকাপে খেলা থেকে বিরত রাখে, তবে হয়তো আইসিসি (স্কটল্যান্ডের পর) ২২তম কোনো দল নিয়ে আসবে। এটা সম্পূর্ণ সরকারের ওপর নির্ভর করছে।’
এমআই/এসএন