টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর আগেই বিতর্কে টালমাটাল পরিস্থিতি। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করেছে আইসিসি। যে ঘটনার প্রতিবাদে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বয়কটের ইঙ্গিত দিয়েছে। এদিকে ঘরের মাঠের বিশ্বকাপের আগে দুর্দান্ত ফর্মে ভারতীয় দল। সাবেক অধিনায়ক ও ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত তো বলেই দিয়েছেন, আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন দলটির মুখোমুখি হতে সব দলই ভয় পাবে।
বাংলাদেশকে বাদ দেয়ার ক্ষেত্রে আইসিসি দ্বিচারি নীতি গ্রহণ করায় আসন্ন বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে পাকিস্তান- গত দুদিন ধরে এমন খবর দিচ্ছে গণমাধ্যম। আজ (২৬ জানুয়ারি) রাতে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পাকিস্তানের ফেডারেল সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির। আর এমন সময়েই ভারতীয় দলের ফর্মের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পাকিস্তানকে খোঁচা দিয়েছেন ভারতের বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার ক্রিস শ্রীকান্ত, পাকিস্তানের উচিত বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়া।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারত দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে, যা বিশ্বকাপের আগে তাদের শেষ প্রস্তুতি সিরিজ। রোববার (২৫ জানুয়ারি) গুয়াহাটিতে ভারত মাত্র ১০ ওভারে ১৫৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ফেলে। অভিষেক শর্মা করেন ১৪ বলে ফিফটি, আর অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব করেন ২৬ বলে ৫৭ রান ।
এটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১৫০ বা তার বেশি রানের লক্ষ্য তাড়া করে দ্বিতীয় দ্রুততম জয়। নিউজিল্যান্ড কোনো ওভারেই ১০ রানের কম খরচ করেনি। ভারত ৮ উইকেটে ও ৬০ বল হাতে রেখে ম্যাচ জিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এই রোমাঞ্চকর জয় এসেছে একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মাত্র ১৫.২ ওভারে ২০৯ রান তাড়া করে ভারতের জয়ের কয়েক দিন পরই। আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে কোনো পূর্ণ সদস্য দেশের জন্য ২০০'র বেশি রানের লক্ষ্য তাড়া করে দ্রুততম জয়ের রেকর্ড এটি।
শ্রীকান্ত তার ইউটিউব শোতে বলেন, ‘শেষ ম্যাচে ভারত ১৫ ওভারে ২০৯ রান করেছে। এই ম্যাচে ১০ ওভারে ১৫০ রান। এটা দেখে অনেক দলই বলতে পারে-“না, আমরা আসছি না। কাপটা তোমরাই রাখো।”’
তিনি আরও বলেন, ‘এই পাকিস্তান, এসো না। তোমাদের লোক মহসিন নাকভি এসব বলছে-এসো না। তোমরা মার খাবে। কলম্বোতে মারা ছক্কা মাদ্রাজে গিয়ে পড়বে। সাবধান। সবচেয়ে ভালো হলো দূরে থাকা। কোনো অজুহাত খুঁজে বের করে এসো না। এই ছেলেরা ওদের ভালোভাবেই পেটাবে।’
‘এটা বিশ্বের সব ক্রিকেট দলের জন্য ভয়ানক সতর্কবার্তা। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এ ধরনের ব্যাটিং-আমি জীবনে এমন কিছু দেখিনি।’
এমআই/এসএন