দক্ষিণ কোরিয়ায় কোনও তারকার বিরুদ্ধে কর-সংক্রান্ত অভিযোগ মানে শুধু আইনি ঝামেলা নয়; এটি সরাসরি আঘাত করে তার খ্যাতি ও জনপ্রিয়তায়। সেই বাস্তবতার মুখোমুখি এখন দেশটির জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা চা ইউন-উ। কে-পপ ব্যান্ড অ্যাস্ট্রোর এই সদস্যকে ঘিরে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ওন (প্রায় ১৩.৭ মিলিয়ন ডলার) কর ফাঁকির অভিযোগে তদন্ত চালাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় কর দপ্তর (এনটিএস)। যদিও এখনও তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়নি, বিতর্ক ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিক বাজারে প্রভাব ফেলেছে।
এনটিএস- এর অভিযোগ অনুযায়ী, চা ইউন-উর মায়ের নামে নিবন্ধিত একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তার বিনোদন আয়ের একটি অংশ দেখানো হয়েছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, ওই প্রতিষ্ঠান বাস্তব কোনও ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালায়নি; কেবল কাগজে এর অস্তিত্ব ছিল। এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত আয়ের জায়গায় করপোরেট আয় দেখানো হয়, যাতে কম কর দিতে হয়। কর কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, এভাবে ২০ বিলিয়ন ওনেরও বেশি কর কম প্রদান করা হয়েছে।
চা ইউন-উর ব্যক্তিগত আয় তিন ভাগে দেখানো হয়েছিল ফ্যান্টাজিও এজেন্সি, মায়ের নামে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান এবং নিজের আয় হিসেবে। কর দপ্তরের মতে, এই আয়-বণ্টনের কারণে মোট করের হার ২০ শতাংশের বেশি কমে গেছে। আইনি মূল্যায়ন বহাল থাকলে প্রকৃত আয়ের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ওনেরও বেশি হতে পারে। এই বিতর্ক কোরিয়ার বিনোদন জগতে অন্যতম বড় ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
আইনি রায় না আসলেও বাণিজ্যিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। একাধিক ব্যাংক, কসমেটিকস ও হেলথ কেয়ার ব্র্যান্ড নীরবে চা ইউন-উর বিজ্ঞাপন সরিয়ে নিচ্ছে বা চুক্তি পুনর্বিবেচনা করছে। অন্যদিকে, চা ইউন-উর এজেন্সি ফ্যান্টাজিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং দাবি করেছে, প্রতিষ্ঠানটি বৈধ। তারা আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতিতেও রয়েছেন। বর্তমানে সামরিক প্রশিক্ষণে থাকায় চা ইউন-উ নিজে এই বিতর্কে মুখ খুলতে পারেননি।
এমকে/টিএ