যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে কোনো যোগাযোগ হয়নি বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার জন্য ইরান কোনো অনুরোধও জানায়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।
আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে দেয়া বক্তব্যে আরাঘচি বলেন, ‘সাম্প্রতিক দিনে উইটকফ ও আমার মধ্যে কোনো যোগাযোগ হয়নি এবং আমরা আলোচনার জন্য কোনো আবেদন করিনি।’
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হুমকি ও অতিরিক্ত দাবি বজায় রাখলে কোনো আলোচনা সফল হতে পারে না। আরাঘচির ভাষ্য অনুযায়ী, সরাসরি যোগাযোগ না থাকলেও কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আরেকটি নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক পথ বেছে নেবে। তবে সাম্প্রতিক পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে।
ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো হামলা চালালে সেটাকে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তেহরানের অভিযোগ, দেশটির ভেতরে সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভের পর যুক্তরাষ্ট্রই উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি আবারও বলেন, ‘হুমকির মুখে কোনো আলোচনা সফল হতে পারে না।’ তিনি সমতার ভিত্তিতে কূটনৈতিক উদ্যোগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যেও সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এবং যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলবে।
যদিও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করেছে, তবুও উত্তেজনা কমাতে কিছু মধ্যস্থতাকারী ও আঞ্চলিক অংশীদারের মাধ্যমে নীরব আলোচনা চালু রয়েছে বলে জানা গেছে।
এমআর/টিএ