বলিউডের ‘এনার্জি কিং’ খ্যাত রণবীর সিং এবার বড়সড় আইনি জটিলতায়। পর্দার ‘ধুরন্ধর’ অভিনেতা বাস্তবে জড়িয়ে পড়লেন ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার গুরুতর অভিযোগে। কর্ণাটকের উপকূলবর্তী অঞ্চলের পবিত্র চৌভুন্ডি দৈব সংস্কৃতি ও হিন্দু ধর্মকে অপমান করার দায়ে বেঙ্গালুরুতে এই অভিনেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
কয়েক মাস আগে গোয়ার একটি অনুষ্ঠানে মঞ্চে উঠে রণবীর সিং ব্লকবাস্টার কন্নড় সিনেমা ‘কান্তারা’র ভূয়সী প্রশংসা করছিলেন। অতিউৎসাহী হয়ে তিনি ছবিতে দেখানো পবিত্র ‘চৌভুন্ডি’ দৈবের বাচনভঙ্গি ও চিৎকার নকল করে দেখান। শুধু তাই নয়, এই পবিত্র দৈব শক্তিকে তিনি ‘মহিলা ভূত’ বলে সম্বোধন করেন। আর এখান থেকেই বিতর্কের আগুনের সূত্রপাত। স্থানীয় সংস্কৃতিতে এই দৈব অত্যন্ত পবিত্র এবং শ্রদ্ধার আসন অলংকৃত করে। রণবীরের এমন আচরণকে কর্নাটকের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের সংস্কৃতির প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে দেখছেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বেঙ্গালুরুর হাই গ্রাউন্ড থানায় রণবীরের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন আইনজীবী প্রশান্ত মেঠাল। পুলিশ সূত্রের খবর, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১৯৬, ২৯৯ এবং ৩০২-এই তিনটি গুরুতর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযোগনামায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, হিন্দু দেবদেবীদের বিরুদ্ধে আপত্তিজনক মন্তব্য করেছেন রণবীর এবং চামুণ্ডাদেবীর মতো অভিনয় করতে গিয়ে তিনি আদতে কর্ণাটকের এই দেবীকে অপমান করেছেন।
ঋষভ শেঠির অস্বস্তি ও বারণ ঘটনার সময় দর্শকাসনে উপস্থিত ছিলেন ‘কান্তারা’ সিনেমার পরিচালক ও অভিনেতা ঋষভ শেঠি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, রণবীর যখন মঞ্চে ওই অঙ্গভঙ্গি করছিলেন, তখন তিনি দর্শকাসন থেকে বারবার তাকে থামতে নিষেধ করেছিলেন; কিন্তু রণবীর সেই বারণ কানে তোলেননি।
ঋষভের কথায়, ‘আমি খুব অস্বস্তিতে পড়েছিলাম। হতে পারে, এটা ছবি বা অভিনয়। কিন্তু যে দৈবকে দেখানো হয়েছে, তা খুবই পবিত্র ও সংবেদনশীল বিষয়। তাই আমি যেখানেই যাই, এই দৈবের নকল করতে নিষেধ করি। এই দেবদেবী আমাদের সঙ্গে খুব গভীরভাবে জড়িয়ে আছেন।’
ক্ষমা চেয়েও মিলল না রেহাই সোশ্যাল মিডিয়ায় তোপের মুখে পড়ে এর আগে রণবীর সিং ক্ষমা চেয়েছিলেন; কিন্তু তাতেও চিড়ে ভিজল না। শেষমেশ আইনি খড়্গ নেমে এল তার ওপর।
এফআইআর দায়ের হওয়ার পর এখন পর্যন্ত রণবীর সিং বা তার টিমের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারাগুলো বেশ কড়া হওয়ায় অভিনেতাকে বড়সড় জবাবদিহিতার মুখে পড়তে হতে পারে।
এমআই/এসএন