লন্ডনের রেডব্রিজে ১৯৯৭ সালে জন্ম নেওয়া ব্রিটিশ যুবক অ্যালফি বেস্ট জুনিয়র ছিলেন এমন একটি পরিবারে, যেখানে প্রাচুর্য ছিল সাধারণ জীবনধারার অংশ।
তিনি কোনো সাধারণ যুবক নন। তার বাবা, অ্যালফি বেস্ট সিনিয়র, বৃটেনের প্রথম ‘জিপসি বিলিয়নেয়ার’ ছিলেন। মোবাইল হোম পার্কের মাধ্যমে সমৃদ্ধি অর্জন করা এই পরিবারের ছেলেটি শৈশব থেকেই বিশেষ প্রতিভাধর। স্কুলে অন্য ছেলেরা পড়াশোনায় মন দেন, অ্যালফি তখন চকলেটের ব্যবসা করতেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি নিজের একটি নাইটক্লাব কিনে সবাইকে অবাক করে দিয়েছিলেন, যা তাকে বৃটেনে সবচেয়ে কম বয়সে ‘পার্ক ওনার’ হওয়ার গৌরব এনে দেয়।
প্রাচুর্যের আবরণেও তার মনে ছিল এক গভীর শূন্যতা। টাকা, গাড়ি, নাম-খ্যাতি সবই ছিল তার হাতের মুঠোয়, কিন্তু মানসিক শান্তি তাকে মেলেনি। জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘রিচ কিডস গো শপিং’-এ তার বিলাসী জীবন দর্শানো হতো, কিন্তু দামী পোশাক আর আড্ডার আড়ালে যেন হৃদয়ে শূন্যতার কোলাহল ছিল। সে খুঁজছিল এমন কিছু, যা জীবনকে সত্যিকার অর্থ দেবে।
ঠিক সেই সময়েই তার পরিচয় হয় ইসলামের সঙ্গে। কুরআনের বাণী তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করল, এবং তিনি বুঝতে পারলেন যা তিনি এতদিন খুঁজছিলেন, তা এখানেই আছে। ২০২৩ সালে অ্যালফি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন। এর আগে কিছু মাস ধরে তার সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিবর্তনের সূচনা লক্ষ্য করা যেত। এক মসজিদের ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, “আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন, তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না।”
বিলাসিতার পরিবর্তে তিনি খুঁজে পান বিনয় এবং সত্যিকার প্রশান্তি। ২৫ বছর বয়সে এই মাল্টি-মিলিয়নেয়ার ঘোষণা করলেন নিজের ইসলাম গ্রহণের। একটি ভিডিওতে তাকে দেখা গেছে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে, এবং ক্যাপশনে লেখা ছিল এক শব্দ, যা এখন তার জীবনের মূলমন্ত্র: “আলহামদুলিল্লাহ।”
তার বাবা অ্যালফি বেস্ট সিনিয়র কিছুটা বিস্মিত হলেও সম্পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এই নতুন পথ অ্যালফিকে আরও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। এখন অ্যালফি বেস্ট জুনিয়র মদ ও উচ্ছৃঙ্খল জীবন পরিত্যাগ করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মাধ্যমে মানসিক শান্তি খুঁজছেন।
আজ তিনি কেবল একজন বিলিয়নেয়ারের সন্তান নন, বরং সেই তরুণ, যিনি সত্যের সন্ধানে রাজপ্রাসাদের আরাম ত্যাগ করে সিজদার মধ্যে শান্তি খুঁজে পেয়েছেন।
এবি/টিএ