মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে বিলিয়ন ডলার মূল্যের প্রতারণা ও অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনার দায়ে কুখ্যাত মিং পরিবারের ১১ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে সিএনএন।
প্রতিবেদনে বলা হয়—হত্যা, অবৈধভাবে আটক রাখা এবং প্রতারণাসহ একাধিক গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে গত বছরের সেপ্টেম্বরে এই ১১ জনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আদালত। পরে এই রায়ের বিরুদ্ধে দুই আসামি আপিল করলে মামলাটি চীনের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম পিপলস কোর্টে যায়। তবে সর্বোচ্চ আদালত আগের রায়ই বহাল রাখেন।
মিং পরিবার ছিল মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের কোকাং অঞ্চলের তথাকথিত ‘চারটি অপরাধী পরিবারের’ একটি। এই পরিবারগুলো শত শত গোপন কেন্দ্রে অনলাইন জালিয়াতি, পতিতাবৃত্তি ও মাদক উৎপাদনের মতো অপরাধ পরিচালনা করত। এসব চক্রের অনেক সদস্য স্থানীয় প্রশাসন ও সামরিক জান্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মিলিশিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাজা কার্যকর হওয়া অপরাধ চক্রটির নেতৃত্বে ছিলেন মিং জুয়েচাং। কোকাংয়ের ‘ক্রাউচিং টাইগার ভিলা’ নামে কুখ্যাত একটি কম্পাউন্ড ছিল তাদের প্রধান ঘাঁটি। চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির তথ্যমতে, একসময় এই চক্রে প্রায় ১০ হাজার মানুষ কাজ করত, যাদের অনেকেই মানব পাচারের শিকার হয়ে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণায় যুক্ত হতে বাধ্য হয়েছিলেন।
২০২৩ সালে পাচার হওয়া শ্রমিকদের স্বজনদের অভিযোগ এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের চাপ বাড়লে বেইজিং এসব অপরাধ ঘাঁটির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করে। ওই বছরের নভেম্বরে মিং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং তাঁদের ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
সিনহুয়া জানায়, গ্রেপ্তারের পর হেফাজতে থাকা অবস্থায় মিং জুয়েচাং আত্মহত্যা করেন। তাঁর ছেলে মিং গুয়োপিং এবং নাতনি মিং ঝেনঝেন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাঁরা স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পান।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জুয়া ও প্রতারণা নির্মূলে বেইজিং ভবিষ্যতেও কঠোর অভিযান অব্যাহত রাখবে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এসব প্রতারণা চক্র প্রতিবছর ৪৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ হাতিয়ে নেয় বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ধারণা।
এবি/টিকে