পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের চোখের দৃষ্টি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইমরান খান সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন (সিআরভিও) নামক একটি চোখের সমস্যায় ভুগছেন। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পেলে তিনি তাঁর ডান চোখের দৃষ্টি চিরতরে হারিয়ে ফেলতে পারেন।
পিটিআইয়ের বরাতে প্রকাশিত মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী, ইমরান খানের ডান চোখের রেটিনার রক্তনালিতে ব্লকেজ বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন। এর ফলে রেটিনা থেকে রক্ত ঠিকমতো বের হতে পারে না, যা দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা করে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রোগের চিকিৎসা দ্রুত এবং বিশেষায়িত হাসপাতালে না করা হলে আক্রান্ত চোখটি স্থায়ীভাবে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।
পিটিআইয়ের মুখপাত্র সৈয়দ জুলফিকার বুখারি এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুতর এবং দ্রুত অবনতিশীল একটি সমস্যা। সিআরভিওর জন্য তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রয়োজন। সামান্য বিলম্বও অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
কিন্তু পিটিআই, ইমরান খানের আইনজীবী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও মাসের পর মাস তাঁদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকের কাছেও তাঁকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।
ইমরান খানের বোন উজমা খানম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁর ভাইকে দেখেননি এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে পিটিআইয়ের উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সের (পিআইএমএস বা পিমস) একদল সরকারি ডাক্তার আদিয়ালা কারাগারে ইমরান খানকে পরীক্ষা করেছেন। তবে এই পরীক্ষার ফলাফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। পাঞ্জাব সরকার জানিয়েছে, ডাক্তাররা রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, গত ২৪ জানুয়ারি রাতে ইমরান খানকে ইসলামাবাদের পিমস হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে ২০ মিনিটের একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আবারও রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
জিও নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আতাউল্লাহ তারার জানান, আদিয়ালা জেলে চক্ষু বিশেষজ্ঞরা ইমরান খানকে পরীক্ষা করার পর তাঁকে পিমস হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘পিমস হাসপাতালে তাঁর চোখের আরও বিশদ পরীক্ষা করা হয় এবং তাঁর আবেদনের ভিত্তিতেই ২০ মিনিটের একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।’
‘ডেথ সেলে’ ইমরান খান—ক্রিকেট বিশ্বের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন‘ডেথ সেলে’ ইমরান খান—ক্রিকেট বিশ্বের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন
তিনি আরও জানান, জেল কোড অনুযায়ী সব কয়েদিই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা পাওয়ার অধিকারী এবং ইমরান খানের ক্ষেত্রেও সেই নিয়ম মেনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে সরকার ‘ইমরান খানের সুস্থতা দাবি করলেও পিটিআই এবং অন্য দলগুলোর নেতারা মনে করছেন, কারাগারের ভেতরে সিআরভিওর মতো জটিল রোগের চিকিৎসা সম্ভব নয়। কারণ, এর জন্য বিশেষায়িত অপারেশন থিয়েটার এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রয়োজন। কারাবন্দী পাঁচজন পিটিআই নেতা এক খোলা চিঠিতে ইমরান খানকে তাঁর পছন্দের হাসপাতালে ভর্তি করার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে সংসদীয় অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন ইমরান খান। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা করা হয়। তিনি ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন। বর্তমানে ইমরান খান ১৯ কোটি পাউন্ডের দুর্নীতির মামলায় ১৪ বছরের সাজা খাটছেন। তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিও একই মামলায় সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত।
এবি/টিএ