এক সময়ের পরিচিত মুখ, পরিচিত আবহ। দীর্ঘ বিরতির পর আবার বড়পর্দায় ফিরছেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর প্রত্যাবর্তনের সঙ্গী অঞ্জন দত্ত। তিন দশকেরও বেশি সময় পর সেই পুরোনো জুটি ফিরছে নতুন গল্পে, নতুন বাস্তবতায়। অপর্ণা সেনের পরিচালনায় উনিশশো পঁচানব্বই সালে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, একত্রিশ বছর পরে সেই স্মৃতির রেশ ধরেই নতুন ছবি ‘প্রত্যাবর্তন’।
এই ছবির পরিচালনায় নবীন সমর্পণ সেনগুপ্ত। তাঁর দাবি, অঞ্জন ও রূপার রসায়ন এতটুকু ম্লান হয়নি। ছবিতে তাঁরা প্রবীণ দম্পতির চরিত্রে। যন্ত্রনির্ভর আধুনিক জীবনে সম্পর্কের দূরত্ব, অনুভূতির অভাব আর পারিবারিক বন্ধনের টানাপোড়েনই এই ছবির মূল কথা। বাবা-মা-সন্তান এখন এক ছাদের নীচে থেকেও আলাদা হয়ে যাচ্ছে, কথোপকথন সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে বার্তার পর্দায়। এই বাস্তবতার মাঝেই পুরুলিয়ার এক প্রবীণ দম্পতির জীবনে ফিরে আসে তাঁদের ছেলে, পুত্রবধূ আর নাতি।
পুরোনো দিনের কথা বলতে গিয়ে রূপা ফিরে গেলেন শুটিংয়ের স্মৃতিতে। অঞ্জনের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের গল্পে উঠে এল হাসির মুহূর্তও। সেই সময় অঞ্জন গাড়ি চালাতে জানতেন না, শুটিংয়ের সময় স্টিয়ারিংয়ে থাকতেন তিনি, কিন্তু ব্রেক আর গিয়ারের দায়িত্ব সামলাতেন রূপাই। পর্দায় সেই দৃশ্য দেখে দর্শকের মনে হয়েছিল, অঞ্জন দত্ত যেন দারুণ গাড়ি চালান। সেই স্মৃতিই আজ নতুন ছবির আবহে ফিরে আসছে।
রূপা জানালেন, তিনি খুব নিয়মিত সমাজমাধ্যমে থাকেন না। কয়েক মাস অন্তর দেখা যায় তাঁকে। পরিচালকের মতে, সমাজমাধ্যম প্রয়োজনীয় হলেও সম্পর্কের শিকড় আলগা হয়ে গেলে চলবে না। সেই শিকড় আগলে রাখার কথাই বলতে চায় এই ছবি। কলকাতা ও পুরুলিয়ায় হয়েছে শুটিং।
এই ছবির আর এক চমক, প্রথমবার একসঙ্গে পর্দায় দেখা যাবে অঞ্জন দত্ত ও শিলাজিৎকে। সম্পর্কে বাবা ও ছেলে। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁরা গানও গাইবেন কি না, সে রহস্য আপাতত ভাঙতে চাননি পরিচালক। ছবিতে আরও রয়েছেন অপরাজিতা আঢ্য, খরাজ মুখোপাধ্যায়, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, রূপা ভট্টাচার্য প্রমুখ। গানের দায়িত্বে বনি চক্রবর্তী।
পুরোনো জুটির প্রত্যাবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই স্পষ্ট বক্তব্য রূপার। তাঁর কথায়, তাঁকে আবার পর্দায় ফেরানোর কথা প্রথম ভেবেছিলেন দেব। সেই সিদ্ধান্তের জন্য নাকি তাঁকে কম ঝামেলা পোহাতে হয়নি। এখন অন্যরাও সেই পথেই হাঁটছেন। সময় বদলালেও স্মৃতি আর সম্পর্কের টান যে আজও সমান শক্ত, সেই কথাই যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিতে আসছে ‘প্রত্যাবর্তন’।
পিআর/এসএন