নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ফেরি উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে হাতিয়ার নলচিরা ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেরি উদ্বোধনের খবরে বিএনপি ও এনসিপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নলচিরা ঘাটে উপস্থিত হন। এ সময় উদ্বোধনের কৃতিত্ব নেওয়াকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন।
নলচিরা ঘাট এলাকার বাসিন্দা নাহিদ উদ্দিন দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ফেরির ক্রেডিট নেওয়া নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে এলাকা থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করলে হাতাহাতি শুরু হয়। এতে অনেকেই আহত হয়েছেন।
এদিকে ফেরি উদ্বোধনের সময় এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে হাতিয়া থানা ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ।
তিনি দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ফেরী উদ্বোধনের সময় নলচিরা ঘাটে এনসিপি নেতৃবৃন্দের ওপর পরিকল্পিতভাবে একটি তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা চালিয়েছে। বারবার এসব সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হলেও প্রশাসনের ভূমিকা দুঃখজনকভাবে নির্বিকার। আগামী দুই ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে আমি নিজেই হাতিয়ার সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবো। যতক্ষণ পর্যন্ত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা না হবে, ততক্ষণ এই কর্মসূচি চলবে।
অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান শামীম দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ফেরি চালু হওয়া হাতিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। আজ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গেলে এনসিপির সন্ত্রাসীরা বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, মারামারির খবর শুনেছি। তবে আহতের সঠিক সংখ্যা এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরআই/টিকে