যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চীনের সঙ্গে যেকোনো চুক্তি যুক্তরাজ্যের জন্য ‘খুবি বিপজ্জনক’ হবে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর এবং ব্যবসা ও বিনিয়োগ বিষয়ক কয়েকটি চুক্তির প্রতিক্রিয়ায় এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
শুল্কসহ নানা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য। তারই অংশ হিসেবে বেইজিং সফর করছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ২০১৮ সালের পর এই প্রথম কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চীন সফরে গেছেন কিয়ার স্টারমার।
স্টারমার এমন সময়ে চীন সফর করছেন, যখন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একের পর এক পশ্চিমা দেশের নেতা বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নিচ্ছেন। অনেকের মতে, ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন কূটনৈতিক ভারসাম্য খোঁজার দিকেই এটি একটি স্পষ্ট মোড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
কিয়ার স্টারমারের এই সফরে দুদেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গভীর করতে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ৩০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়াই ব্রিটিশ নাগরিকদের চীন ভ্রমণে বেইজিয়ের সম্মতি। একই সঙ্গে ব্রিটেনের হুইস্কির ওপর চীনের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
পাশাপাশি যুক্তরাজ্যভিত্তিক ফার্মাসিউটিক্যালস অ্যাস্ট্রাজেনেকা চীনে দেড় হাজার কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার চেষ্টায় ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের সঙ্গে এক কাতারে যোগ দিল লন্ডন।
তবে কিয়ার স্টারমারের চীন সফরকে ভালোভাবে দেখছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ফার্স্ট লেডি মেলানিয়াকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এগুলো (চুক্তি) তাদের জন্য খুবই বিপজ্জনক হচ্ছে।’
ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিট বলেছে, কিয়ার স্টারমারের চীন সফর এবং এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে হোয়াইট হাউস আগেই অবগত ছিল। একই সঙ্গে তারা উল্লেখ করেছে, ট্রাম্পের নিজেরও আগামী এপ্রিল মাসে চীন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে চীন সফর করেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও। ওই সফরে তিনি বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে কয়েকটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছান। মার্ক কার্নির বেইজিং সফরও ভালোভাবে নেননি ট্রাম্প।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কার্নি যদি বেইজিংয়ের সঙ্গে আরও কোনো চুক্তি করেন, তাহলে কানাডা থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী পরে এই হুমকিকে কেবল একটি আলোচনামূলক কৌশল বলে উড়িয়ে দেন।
তথ্যসূত্র: সৌদি গেজেট