মুন্সীগঞ্জে ভায়রার টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে নিজেই দুই ছিনতাইকারী ভাড়া করে ‘ছিনতাই নাটক’ সাজান এক ব্যক্তি। পরে আবার নিজেই প্রবাসীর বোনকে সঙ্গে নিয়ে থানায় অভিযোগ করতে আসেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার আলদী বাজার এলাকায়।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মিনহাজুল আলম।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার বলেন, গত ২৮ ডিসেম্বর সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি গ্রামের প্রবাসী কাইয়ুম খানের (৩৮) বিদেশ থেকে পাঠানো ১০ লাখ টাকা রিকাবীবাজার সিটি ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা হয়। টাকাগুলো নিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর বোনের স্বামী (ভায়রা) শাহজালাল ওরফে সাহা (৩২), প্রবাসীর স্ত্রী এবং প্রবাসীর বোন হালিমা বেগম (৪৫) একটি ব্যাটারিচালিত মিশুক যোগে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার সেরাজাবাদ গ্রামে ফিরছিলেন। পথে আলদী পাকা সড়কের ঋষিবাড়ি ব্রিজের উত্তর পাশে দুই ছিনতাইকারী মুখ বেঁধে নম্বরবিহীন একটি মোটরসাইকেল নিয়ে এসে টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর প্রবাসীর বোন হালিমা বেগম টঙ্গীবাড়ী থানায় এজাহার দায়ের করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- প্রবাসীর ভায়রা শাহজালাল হালদার ওরফে সাহা (৩৮) এবং তার ভাড়া করা দুই সহযোগী খোকন হালদার (৩২) ও ইকবাল হোসেন (৩০)।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া টাকার মধ্যে এক লাখ টাকা উদ্ধার এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে। বাকি লুণ্ঠিত টাকার অবস্থান নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং দ্রুতই তা উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছেন, ব্যাংক থেকে টাকা তুলে শাহজালাল নিজেই বহন করছিলেন। তিনি তার দুই বন্ধুর সঙ্গে আলোচনা করে ভায়রার টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে এই ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা সাজান। শাহজালালের নির্দেশ অনুযায়ী, দুই বন্ধু ইজিবাইকে যাওয়ার পথে টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নেওয়ার নাটক করেন। এ সময় শাহজালাল কোনো প্রতিরোধ না করে সহজেই ব্যাগটি ছেড়ে দেন। পরে তাঁরা নিজেদের মধ্যে টাকা ভাগ করে নেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টঙ্গীবাড়ী থানার এসআই শাহ আলী বলেন, এ ঘটনায় ইতিমধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এসকে/টিএ