বলিউডে ধর্মীয় বিভাজন ও কাজ না পাওয়ার অভিযোগ ঘিরে কয়েক সপ্তাহ আগেই তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন অস্কারজয়ী সঙ্গীত পরিচালক এ আর রহমান। দীর্ঘ আট বছর কাজ না পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের অদৃশ্য দেওয়ালের দিকে। সেই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক এখনও থামেনি। এবার রহমানের বক্তব্যের একটি অংশে সহমত প্রকাশ করলেন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী আমল মালিক।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আমল মালিক বলেন, এ আর রহমান যা বলেছেন, তার অনেকটাই বাস্তব সত্যের সঙ্গে মিলে যায়। তাঁর মতে, বিনোদন জগতে স্বজনপোষণ এবং গোষ্ঠীকেন্দ্রিক কাজের প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। নির্দিষ্ট কিছু শিল্পী বারবার কাজের সুযোগ পান, আর অনেক যোগ্য শিল্পী ধীরে ধীরে প্রান্তিক হয়ে পড়েন। অমলের কথায়, ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে এমন একটি চক্র তৈরি হয়েছে, যেখানে পরিচিত মুখ ছাড়া অন্যদের জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে।
অমল বলেন, আজ এই প্রবণতার কারণেই নামী সঙ্গীত পরিচালকদের কাজের ক্ষেত্রও সংকুচিত হয়ে আসছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি একজন প্রতিষ্ঠিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শিল্পী কাজ না পান, তাহলে নতুন শিল্পীদের পক্ষে এই ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকা কতটা কঠিন, তা সহজেই অনুমান করা যায়।
তবে এ আর রহমানের সব বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন অমল মালিক। বিশেষ করে ধর্মীয় মেরুকরণের প্রসঙ্গে তিনি ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। অমলের স্পষ্ট বক্তব্য, সঙ্গীতের জগতে ধর্ম কোনও মানদণ্ড হওয়া উচিত নয় এবং বাস্তবেও সেটিই মূল সমস্যা নয় বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, মূল বিষয়টি হলো আস্থার জায়গা। অনেক পরিচালক নির্দিষ্ট এক জন সঙ্গীত পরিচালকের উপরই ভরসা করেন এবং তাঁদের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করতে স্বচ্ছন্দবোধ করেন।
এই প্রসঙ্গে অমল উদাহরণ টানেন এ আর রহমান ও মণিরত্নমের দীর্ঘদিনের কাজের সম্পর্কের কথা। তিনি বলেন, মণিরত্নমের ছবিতে রহমানই প্রায় একচেটিয়াভাবে সঙ্গীতের দায়িত্ব সামলেছেন। সেই জায়গা থেকেই অমলের দাবি, ধর্ম নয়, বরং নির্দিষ্ট জুটি ও বিশ্বাসের সম্পর্কই এখানে বড় ভূমিকা নেয়।
তবে পাশাপাশি নতুনদের সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও জোর দিয়ে বলেন অমল মালিক। তাঁর মতে, ইন্ডাস্ট্রি সুস্থ রাখতে হলে নতুন প্রতিভাদের সামনে আসার সুযোগ দিতে হবে। নচেৎ একঘেয়েমি তৈরি হবে এবং সৃজনশীলতার ক্ষতি হবে। অমলের এই বক্তব্য নতুন করে বলিউডের কাজের পরিবেশ এবং অন্তর্গত রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।
এমকে/টিকে