এক বছরের ব্যবধানে জীবনের সবচেয়ে বড় দুই আশ্রয় হারিয়ে নিঃশব্দ এক কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন টলিপাড়ার পরিচিত মুখ সম্পূর্ণা লাহিড়ী। বাবা নীলাদ্রি লাহিড়ীর প্রয়াণের শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই এবার মাকেও হারালেন তিনি। বিনোদন জগতের আলোঝলমলে পর্দার আড়ালে যে এক গভীর ব্যক্তিগত অন্ধকার জমে উঠতে পারে, সম্পূর্ণার সাম্প্রতিক জীবন যেন তারই এক মর্মস্পর্শী উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
বাংলা টেলিভিশনের সুপরিচিত অভিনেতা নীলাদ্রি লাহিড়ীর চলে যাওয়ার খবর একসময় শিল্পমহলকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি বহু জনপ্রিয় ধারাবাহিকে কাজ করে দর্শকের ঘরের মানুষ হয়ে উঠেছিলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাতেও নিজের দক্ষতার ছাপ রেখেছিলেন এই বর্ষীয়ান শিল্পী। শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর হঠাৎ করেই তাঁর বিদায় অনেকের কাছেই ছিল অপ্রস্তুত এক আঘাত। পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত চিকিৎসার মধ্যেই আচমকা শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং হৃদ্রোগজনিত সমস্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
সেই শোকের ভার পুরোপুরি কাটার আগেই সম্পূর্ণার জীবনে নেমে আসে আরও এক নিঃশব্দ ঝড়। চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ দিনে মাকে হারান তিনি। মায়ের মৃত্যুর খবর ঘনিষ্ঠ মহলে ছড়িয়ে পড়লেও ঠিক কীভাবে এই বিদায়, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানাননি অভিনেত্রী। তাঁর এই নীরবতাই যেন বোঝাচ্ছে শোকের গভীরতা কতটা ব্যক্তিগত এবং অন্তর্লীন।
ঘনিষ্ঠদের মতে, বাইরের দুনিয়ায় স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলেও ভেতরের লড়াইটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এক বছরের ব্যবধানে বাবা ও মাকে হারানোর বেদনা সহজে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। পরিবারজুড়ে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণ হওয়ার নয় বলেই মনে করছেন অনেকে। তবু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিই হয়তো হয়ে উঠবে শক্তি, এমন আশাই করছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
এই মুহূর্তে সম্পূর্ণা লাহিড়ীর জীবন যেন পর্দার গল্পের থেকেও বেশি বাস্তব, বেশি আবেগঘন। আলো, ক্যামেরা আর অভিনয়ের ভিড়ের মাঝেও ব্যক্তিগত শোকের এই অধ্যায় তাঁর জীবনে এক গভীর ছাপ রেখে গেল।
পিআর/টিকে