ভারতের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেট ঘোষণার পর দেশটির শেয়ারবাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেয়ার লেনদেনে সিকিউরিটিজ ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স (এসটিটি) এবং মূলধনী লাভ কর (ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স) বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দেশটির শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ১০ লাখ কোটি রুপি বাজার মূলধন এক নিমিষেই গায়েব হয়ে গেছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দ্য ইকোনমিক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত কয়েক বছরের মধ্যে বাজেটের দিন এটিই সবচেয়ে বড় বাজার পতনের ঘটনা।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, লেনদেন শেষে বিএসই সেনসেক্স ১ হাজার ৫৪৬ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৮৮ শতাংশ কমে ৮০ হাজার ৭২২ দশমিক ৯৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
অন্যদিকে, এনএসই নিফটি ৫০ সূচক ৪৯৫ দশমিক ২০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ২৪ হাজার ৮২৫ দশমিক ৪৫ পয়েন্টে নেমে আসে। বিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত বাজার মূলধন এক ধাক্কায় ৯ লাখ ৭২ হাজার কোটি রুপি কমে ৪৫০ দশমিক ১৫ লাখ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে।
মূলত ফিউচার্স ও অপশন (এফ অ্যান্ড ও) ট্রেডে কর বৃদ্ধির ঘোষণাই এই ধসের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, ফিউচার্সে এসটিটি ০ দশমিক ০২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ০ দশমিক ০৫ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া অপশন প্রিমিয়াম এবং অপশন এক্সারসাইজে করের হার বাড়িয়ে ০ দশমিক ১৫ শতাংশ করা হয়েছে।
সরকারের দাবি, শেয়ারবাজারে অতিরিক্ত ফটকাবাজি কমানো এবং ছোট বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার লক্ষ্যেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘোষণার পরপরই ব্রোকারেজ হাউজ, স্টক এক্সচেঞ্জ এবং ট্রেডিং সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোতে ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে অ্যাঞ্জেল ওয়ান, বিএসই এবং গ্রো-এর মতো শেয়ারগুলোর দাম ৮ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।
সেনসেক্সের শীর্ষ ৩০টি স্টকের মধ্যে এসবিআই, আদানি পোর্টস, টাটা স্টিল এবং ওএনজিসি-র মতো বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ার ৪ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত দর হারিয়েছে। তবে বাজারের এই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার বিপরীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই বাজেটকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি বলেন, এই বাজেট ভারতের সংস্কারের পথে নতুন গতি যোগ করবে এবং যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। রাজস্ব ঘাটতি কমানো এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিয়ে তিনি এই বাজেটকে ‘বিকশিত ভারতের’ শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে দাবি করেন।
এসকে/টিএ