ফরিদপুর-২ (সালথা–নগরকান্দা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেছেন, আমরা যারা সত্যিকার মুসলমান, তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি, রোজা রাখি, হজ করি। কিন্তু আমাদের মধ্য কে জান্নাতে যাবে আর কে জাহান্নামে যাবে, সেই সিদ্ধান্ত একমাত্র আল্লাহ তাআলার। আমরা কেউ জান্নাত-জাহান্নামের বিষয়ে গ্যারান্টি দিতে পারি না। আমরা কেবল দোয়া করতে পারি।
যারা জান্নাত-জাহান্নামের নিশ্চয়তা দেয়, তারা নাফরমানি কাজ করছে। মনে রাখবেন- ইসলাম পালন করার বিষয়, বিক্রি করার নয়।
রবিবার (১ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে নিজ নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া গট্টি গ্রামে আয়োজিত এক ওঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেন, ‘আগামী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের প্রতিষ্ঠায় সবাই যেন নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এই নির্বাচন নির্ধারণ করবে আগামী দিনের বাংলাদেশ কেমন হবে। নতুন প্রজন্মের জন্য কেমন সালথা উপজেলা গড়ে উঠবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘দলমত গ্রুপিংয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে হবে।
নেতৃত্বের প্রমাণ দিতে হলে প্রতিটি কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ভোট নিশ্চিত করতে হবে। সময় খুব কম, তাই ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। আমি শহীদ জিয়ার সৈনিক। জনগণের পাশে থাকব, তাদের সেবা করব। তাই আপনাদের একটি ভোট আমাকে অনেক কিছু করার সুযোগ করে দেবে।
ভোটার আইডি কার্ড একজন নাগরিকের ব্যক্তিগত সম্পদ ও গোপন তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার ছাড়া কেউ এটি চাইতে পারে না। বাড়িতে গিয়ে কেউ যদি ভোটার আইডি কার্ড বা নম্বর চায়, তবে তা বেআইনি। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সেনাবাহিনী বা পুলিশকে জানান।’
বিএনপির এই নেত্রী বলেন, ‘সালথা-নগরকান্দায় মানসম্মত হাসপাতাল নেই। বিদ্যমান হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবায় রূপান্তর করতে হবে। যাতে স্বল্প খরচে এলাকার মানুষ চিকিৎসা নিতে পারে। পাশাপাশি এই এলাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে এবং যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।’
সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদের সঞ্চালনায় ওঠান বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ফরিদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ফজলুল হক টুলু মিয়া, সালথা উপজেলার বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াহিদুজ্জামান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল ইসলাম তারা মিয়া, খন্দকার রেজাউল ইসলাম চয়ন মিয়া, বিএনপি নেতা জাহিদ মাতুব্বর, রফিকুল ইসলাম, ইব্রাহিম মোল্যা, পাভেল রায়হান, কামরুল হাসান মজনু, সায়েম হোসেন টিটন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা কামরুল ইসলাম প্রমুখ।
আরআই/টিকে