ভালোবাসা দিবসের আর মাত্র তেরো দিনের অপেক্ষা, তার আগেই ছোট পর্দার দুই পরিচিত মুখ রণজয় বিষ্ণু ও শ্যামৌপ্তি মুদলির ব্যক্তিজীবনের নতুন অধ্যায় নিয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসছেন অনুরাগীরা। বিয়ের প্রস্তুতির ব্যস্ততার মাঝেও ভক্তদের জন্য বিশেষ চমক দিতে ভোলেননি এই জুটি। সমাজমাধ্যমে তাঁদের ভাগ করে নেওয়া একটি প্রেমঘন দৃশ্য মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে দর্শকের পর্দায়, আর তাতেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে আসন্ন সম্পর্কের উষ্ণতা।
দৃশ্যের শুরুতেই সাদাকালো আবহে ফিরে যায় সময়। কিংবদন্তি উত্তমকুমার ও সুচিত্রা সেনের এক স্মরণীয় মুহূর্তকে নতুন করে ফুটিয়ে তোলেন রণজয় ও শ্যামৌপ্তি। সংলাপের আবেগ, চোখের ভাষা আর সংযত অভিব্যক্তিতে যেন ধরা পড়ে পুরোনো দিনের প্রেমের মায়া। রণজয়ের লাজুক হাসি আর শ্যামৌপ্তির গভীর দৃষ্টি মিলিয়ে দৃশ্যটি হয়ে ওঠে এক নস্টালজিক অনুভব, যা দর্শককে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের আবেশে।
এরপর দৃশ্য বদলে যায় রঙিন প্রকৃতির কোলে। পাহাড়ি নিস্তব্ধতা, মৃদু আলো আর দুজনের নিরিবিলি সময় কাটানোর মুহূর্ত যেন বাস্তবের বাইরের এক স্বপ্নলোকের ইঙ্গিত দেয়। পটভূমির সুর, হাসি আর স্বতঃস্ফূর্ত কথোপকথনে গড়ে ওঠে এক কোমল অনুভূতির পরিবেশ, যা অনেকের কাছেই নিখুঁত প্রাক্বিবাহ স্মৃতি হয়ে উঠেছে।
দীর্ঘদিন পর্দায় জনপ্রিয় জুটি হিসেবে দেখা গেলেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে এত দিন তাঁরা নীরবই ছিলেন। নিজেদের কেবল বন্ধু বলে পরিচয় দিলেও পারস্পরিক বোঝাপড়া আর রসায়ন বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। সমাজমাধ্যমের নানা ইঙ্গিতে সেই ঘনিষ্ঠতার আভাস মিললেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর যেন সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটেছে।
একটি ধারাবাহিকের সেট থেকে শুরু হওয়া বন্ধুত্ব আজ জীবনের স্থায়ী বন্ধনে রূপ নিতে চলেছে। বসন্তের শুরুতেই বিয়ের সানাই বাজবে, আর প্রেম দিবসেই সাতপাকে বাঁধা পড়বেন দুজন। বন্ধুত্ব থেকে জীবনসঙ্গী হয়ে ওঠার এই যাত্রা অনুরাগীদের কাছে যেমন আবেগঘন, তেমনই অনুপ্রেরণারও। টলিপাড়ার সাম্প্রতিক সুখবরগুলির মধ্যে এই প্রেমগাথাই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত।
পিআর/টিকে