অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমান সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় মেরুকরণ নিয়ে চলমান বিতর্কের বিষয়ে আবারও মুখ খুলেছেন। সম্প্রতি ‘দ্য কপিল শর্মা শো’-তে উপস্থিত হয়ে তিনি বলেন, তথ্য কত সহজে বিকৃত হয়ে যায় এবং এর কারণে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়, তা তিনি উপলব্ধি করেছেন। তিনি জানান, “কীভাবে তথ্য সবাই ভুল বুঝল, সেটা বুঝতে শিখলাম। আলাদা রাজ্য, আলাদা সংস্কৃতি। এখানে তথ্য সবার কাছে পৌঁছানোর আগেই বিকৃত হয়ে যায় এটাই এই বিশ্বের বড় সমস্যা।”
গত জানুয়ারিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের পর থেকেই সুরকারকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, গত কয়েক বছরে বলিউডের বহু কাজ তার হাতছাড়া হয়েছে এবং এর পেছনে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের প্রভাব থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। যদিও সরাসরি কেউ তাকে এমন কিছু বলেননি, তবে কানাঘুষোর মাধ্যমে তিনি এই ধারণা পেয়েছেন বলে জানান।
সেই সময় তিনি আরও বলেন, “আন্তরিকতা দিয়েও যদি কাজ না আসে, আমি আবার কারও কাছে গিয়ে নিজের তদবির করতে পারি না। কারও অফিসে গিয়ে বসে থাকতে পারব না।” এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৮ জানুয়ারি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেন রহমান। সেখানে তিনি বলেন, “গান সবসময়ই আমার সংযোগ স্থাপন, উদযাপন এবং সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যম। ভারত আমার অনুপ্রেরণা, আমার শিক্ষক এবং আমার বাড়ি। কখনো কখনো উদ্দেশ্য নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে, কিন্তু সংগীতের মাধ্যমে উন্নতিসাধন ও সম্মানজ্ঞাপনই আমার লক্ষ্য। আমি কখনো কাউকে ব্যথা দিতে চাইনি।”
ভিডিওবার্তায় নিজের বিভিন্ন প্রকল্পের উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি। তিনি জানান, ‘জালা’ প্রকল্পে কাজ করেছেন, যা ওয়েভস সামিটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে উপস্থাপন করা হয়েছিল। নাগা সংগীতশিল্পীদের নিয়ে একটি স্ট্রিং অর্কেস্ট্রা গড়ে তোলা, ‘সানশাইন অর্কেস্ট্রা’-কে পরামর্শ দেওয়া এবং ভারতের প্রথম বহুসংস্কৃতির ভার্চুয়াল ব্যান্ড ‘সিক্রেট মাউন্টেন’ প্রতিষ্ঠার কথাও উল্লেখ করেন। এছাড়া ‘রামায়ণ’-এর সংগীত নিয়ে হ্যান্স জিমারের সঙ্গে সহযোগিতার অভিজ্ঞতাও ভাগ করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, বিতর্কের মাঝেও এ আর রহমান স্পষ্ট করেছেন, তার সংগীতের লক্ষ্য কখনো বিভাজন নয়, বরং সংযোগ ও সম্মান। তবে ভুল বোঝাবুঝি তাকে ব্যথিত করেছে, যা তার সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট।
এমকে/টিএ