ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, যারা ব্রাকসু নির্বাচন মেকানিজম করে বন্ধ করে দিয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণরায়ের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান দেখিয়ে দেব। গণতান্ত্রিক ধারাকে বন্ধ করে পেছন দিয়ে যারা ক্ষমতায় আসতে চায়, যারা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতা দখল করতে চায়, তাদের নির্বাচনে লাল কার্ড দেখানো হবে। ইনসাফের প্রতিনিধিদের গণরায় ও ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে আবু সাঈদের বাংলাদেশ বির্নিমান করা হবে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে রংপুর নগরীর শহীদ আবু সাঈদ চত্বরে ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সংসদের উদ্যোগে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে গণজমায়েত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে সাদিক কায়েম বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ১১ দলীয় জোট ক্যাম্পেইন করছে। কিন্তু বলতে খারাপ লাগে, গত ১৬ বছর যারা মজলুম ছিল, তারা আজকে জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে জোর গলায় বলতে ভয় পাচ্ছে। অনেক বলার পর মহান নেতা আমাদের বড়ভাই বুকে পাথর চাপা কষ্ট নিয়ে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে বলেছেন। কিন্তু তৃণমূলে নেতাকর্মীরা ইনিয়ে-বিনিয়ে ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দেশে ডাবল স্ট্যান্ডবাজি করা যাবে না।
তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে কখনো ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন না। ‘হ্যাঁ’-এর স্লোগান নেই। আমরা বলতে চাই, জুলাইকে ধারণ করে নতুন বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে আপনাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।আপনারা ভুল রাজনীতি করছেন। এখনও সময় আছে শুধরে যান। প্রত্যেক নেতাকর্মীকে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারের আহ্বান জানান।
নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আপনারা নির্বাচন কমিশনার হয়েছেন। গত কয়েকদিন আগে গণভোটে ‘হ্যাঁ-এর পক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রচারণা চালাতে পারবে না মর্মে নির্বাচন কমিশন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এই ধরনের সুশীলগিরি স্বাধীন দেশে চলবে না। আপনারা কার নির্দেশে এ ধরনের ঘোষণা দিয়েছেন, তা পরিস্কার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রে ফ্যাসিবাদী কাঠামো রয়েছে, দিল্লীর দালালরা ষড়যন্ত্র করছে, তারা শেখ হাসিনার কাঠামোকে আবারও রেখে দিতে চায়।আমরা বেঁচে থাকতে সেটি হতে দেব না। নির্বাচন কমিশনকে বলবো আপনারা অবস্থান পরিবর্তন করুন।
সাদিক কায়েম বলেন, আগামী নির্বাচনে নেতা নির্বাচন করতে ভুল করলে চলবে না। না হলে ফ্যাসিবাদী আমলে আমাদের ফিরে যেতে হবে। আমরা কাউকে নব্য ফ্যাসিস্ট হতে দেব না। গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর বিজয়ের মাধ্যমে আগামী ১০০ বছরের রাজনীতি বিনির্মান করা হবে। জুলাই শহীদদের স্পিরিট আমাদের ইনসাফের পক্ষে প্রতিনিধিদের ব্যাপকভাবে বিজয়ী করতে হবে।
তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ধারা শুরু হয়েছে। কিন্তু আজকে নতুন যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি নির্মাণ করার কথা, সেই কথা রাজনৈতিক দলগুলো ভুলে যাচ্ছে। আবু সাঈদের উত্তরসূরীরা বেঁচে থাকতে, যারা শহীদদের রক্তের সঙ্গে প্রতারণা করবে, তাদের দেশে রাজনীতি করতে দেব না।
ডাকসুর ভিপি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হবে, ২৮ অক্টোবর লঠি-বৈঠা দিয়ে দিনে-দুপুরে হত্যাকারীদের বিচার করা হবে। ‘হ্যাঁ’ বিজয়ের মাধ্যমে শহীদ ওসমান হাদী, ৫ মে শাপলা গণহত্যাকারীদের বিচার হবে। ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে গত ১৬ বছর যারা ফ্যাসিস্ট হাসিনার জুলুমতন্ত্র ও মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করেছিল তাদের পথ চিরতরে বন্ধ হবে।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি সুমন সরকারের সভাপতিত্বে গণজমায়েতে বক্তব্য দেন জকসু নেতা ফেরদৌস আর হাসান, চকসুর জিএস সাইফ বিন হাবীব, রাজশাহীর ভিপি মোসতাকুর রহমান জাহিন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় পরিষদ সদস্য ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান বেলাল, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী রায়হান সিরাজী, মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল হুদা, সাংবাদিক ও সংগঠক সরকার মাজহারুল মান্নানসহ অন্যরা।
এমআর/টিএ