দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর অভিযোগে নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিএনপির ৯ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত সাবেক সংসদ সদস্য, স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রকৌশলী ফজলুল আজিমের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন- নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য খন্দকার আবুল কালাম, হাতিয়া পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী আব্দুর রহিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আলো, হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মোছলে উদ্দিন নিজাম চৌধুরী, অ্যাড. মো. ইউনুছ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল উদ্দিন রাশেদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইমাম হাসান, শেখ ফরিদ ও সহ-কোষাধ্যক্ষ ফয়জুর রহমান নান্টু।
বহিষ্কার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাতিয়া পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজি আবদুর রহিম জানান, এমন সিদ্ধান্তে আমরা বিচলিত নই। আমরা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হরিণ মার্কা জয়ী হয়ে তারেক রহমানকে এই আসন উপহার দিতে চাই। আমাদের প্রার্থী তিনবারের সংসদ সদস্য।
তিনি ব্যাপক জনপ্রিয় ব্যক্তি। আমরা আশাবাদী প্রার্থীকে বিপুলভোটে জয়ী করব। এখানে যাকে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে তিনি কেন্দ্রীয় নেতা হলেও হাতিয়ায় তার তেমন গ্রহণ যোগ্যতা নেই। আজিম সাহেব সবসময় আমাদের সুখে-দুঃখে ছিলেন তাকে আমরা বেছে নিয়েছি।
নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বহিষ্কার কার্যকর করা হয়েছে বলে আমি জানতে পেরেছি। যারা দলীয় সিদ্ধান্তের বাহিরে যাবে তাদের সবার বিরুদ্ধে এভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম, ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাত পাখা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী এটিএম নবী উল্যাহ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) মনোনীত তারা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মোতালেব, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির একতারা প্রতীকের প্রার্থী আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আব্দুল মালেক, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির ছাতা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আবুল হোসেন, ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী তানবীর উদ্দিন রাজীব এবং হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম।