২০২৩ সালের আগে ইনডোর অ্যাথলেটিক্সে বাংলাদেশ তেমন অংশগ্রহণ করেনি। ২০২৩ কাজাখস্তান এশিয়ান ইনেডার অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশীপে ৬০ মিটার স্প্রিন্টে স্বর্ণ জিতে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন ইমরানুর রহমান। পরের বছর ইরানের তেহরানে ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে জহির রায়হান রৌপ্য ও হাই জাম্পে মাহফুজুর রহমান ব্রোঞ্জ জেতেন। এবার চীনের তিয়ানজিনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন শুধু দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমান।
ফুটবল, ক্রিকেটের বাইরে অন্য খেলার খেলোয়াড়দের আর্থিক প্রাপ্তি তেমন নেই। দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশকে প্রতিনিধিত্ব করাই তাদের বড় সম্মান। বিগত এশিয়ান ইনডোর অ্যাথলেটিক্সে রৌপ্য জেতা জহির রায়হান দেশের বাইরে অনেকটা নিভৃতে থাকায় ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগহীন।
অন্য পদকজয়ী হাইজাম্পার মাহফুজকে নিয়ে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলমের ব্যাখ্যা, ‘মাহফুজের আগের পারফরম্যান্স এখন নেই। যখন পদক জিতেছিলেন তখন ২.১৫ মিটার পর্যন্ত লাফিয়েছিলেন, এখন সেটা দুইয়ের নিচে কখনো ১.৯০। আমাদের সিলেকশন কমিটি পারফরম্যান্সের অতীত বর্তমান বিশ্লেষণ করে নির্বাচন করে।’
হাইজাম্পার মাহফুজ অত্যন্ত সম্ভাবনাময় অ্যাথলেট। তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদকও এনেছেন বেশ কয়েকবার। অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনে বর্তমান অ্যাডহক কমিটি আসার পর সম্প্রতি সাফ অ্যাথলেটিক্স, ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের দলে ছিলেন না মাহফুজ। তাই এশিয়ান ইনডোরে না থাকাটা তার কাছে আর তেমন পীড়াদায়ক নয়। নিজের না থাকা নিয়ে কিছু না বললেও এশিয়ান ইনডোরে অংশগ্রহণকারী সংখ্যা নিয়ে বলেন ,‘এশিয়ান ইনডোরে আমরা দুই বার অংশগ্রহণ করেছি। দুই আসরে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জসহ তিনটি পদক এসেছে। অ্যাথলেট বেশি অংশগ্রহণ করলে পদক জয়ের সম্ভাবনা বাড়ে এবং অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ থাকে।’
২০২৩ সালে কাজাখস্তানে এশিয়ান ইনডোরে দ্রুততম মানব-মানবী ইমরানুর রহমান ও শিরিন আক্তার গিয়েছিলেন। ইমরান স্বর্ণ জেতায় ইরানের তেহরানে পাঁচ জন অ্যাথলেট পাঠিয়েছিল ফেডারেশন। সেখান থেকে দু’টি পদক এসেছিল। এবার মাত্র একজন কেন? এর উত্তরে সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বেশি অ্যাথলেট পাঠাতে অর্থ প্রয়োজন। আমাদের আর্থিক সংকট থাকায় চাইলেও খেলোয়াড় বেশি পাঠানো সম্ভব নয়।’
৬-৮ ফেব্রুয়ারি চীনের তিয়ানজিনে এশিয়ান ইনডোর অ্যাথলেটিক্স অনুষ্ঠিত হবে। ইমরানুর রহমান বিগত দুই আসরের মতো এবারও ৬০ মিটার স্প্রিন্টেই অংশগ্রহণ করবেন। চ্যাম্পিয়নশীপ শুরুর দিনই এই ইভেন্ট। এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে গত পরশু ইংল্যান্ড থেকে ঢাকায় এসেছেন ইমরান। আগামীকাল চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন।
২০২৩ সালে স্বর্ণ জিতলেও পরের বছর পদক তালিকায় ছিলেন না। এবার একমাত্র তিনিই বাংলাদেশের প্রতিনিধি। তাই খানিকটা চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা ইমরানুর রহমান বলেন, ‘আমি চ্যাম্পিয়নশীপের প্রস্তুত। অনুশীলন যথেষ্ট হয়েছে। খেলার দিন সেরাটা দিতে পারলে পদক আশা করছি।’
এসকে/এসএন