শবে বরাত বা বরাতের রাত আল্লাহ তাআলার রহমত, মাগফিরাত ও অনুগ্রহ লাভের এক বিশেষ সুযোগ। এ রাতে আল্লাহ তাআলা তার অনুগত বান্দাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।
হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, বান্দা আল্লাহ তাআলার কাছে যা চায় আল্লাহ তাকে তা দান করেন। কিন্তু এত ব্যাপক ক্ষমা ও দয়ার মধ্যেও কিছু মানুষ রয়েছে, যাদের জন্য এ রাতে ক্ষমার কোনো অংশ থাকে না।
যদিও মধ্য শাবানের রাত সম্পর্কে হাদিসে পাকে স্পষ্ট ঘোষণা এসেছে যে, আল্লাহ তাআলা এ রাতে অধিকাংশ বান্দাকে ক্ষমা করে দেন।
আমাদের উচিত এ রাতে অধিক পরিমাণে তসবিহ পড়া, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া ও কুরআন তেলাওয়াত করা। আমরা এ রাতে মহান আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজনের কথা বলব। নফল নামাজ পড়ব। কাজা নামাজ আদায় করব। শবেবরাতের নির্দিষ্ট কোনো নামাজ নেই। তবে এ রাতে কবর জিয়ারতের বিশেষ ফজিলত রয়েছে।
আমাদের উচিত অপ্রয়োজনে সময় ব্যয় না করে এই পবিত্র রজনীতে আল্লাহর ইবাদত বন্দিগিতে আত্মনিয়োগ করা। তাহিয়্যাতুল ওজু, দুখুলিল মাসজিদ, আউওয়াবিন, তাহাজ্জুদ, সালাতুততাসবিহ, সালাতুলহাজাত ও অন্যান্য নফল নামাজ করা। কারণ নফল ইবাদতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো নামাজ।
প্রতিটি নফল ইবাদতের জন্য তাজা ওজু বা নতুন ওজু করা মোস্তাহাব। আমাদের উচিত এ রাতে অত্যধিক নফল নামাজ পড়া। রুকু-সিজদা দীর্ঘ করা। অধিক পরিমাণে কুরআন তেলাওয়াত করা। দরুদ শরিফ পড়া। অধিক পরিমাণে তাওবা-ইস্তিগফার করা।
তাসবিহ-তাহলিল, জিকির-আজকার ইত্যাদি ইবাদতে মগ্ন থাকা। নিজের জন্য, পিতা-মাতার জন্য, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবের জন্য, সব মুমিন মুসলমান এবং দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা।
এ গুরুত্বপূর্ণ রাতে মহান আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করতে নিচের দোয়াগুলো বেশি বেশি পড়তে পারেন-
رَبِّ أَوْزِعْنِىٓ أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِىٓ أَنْعَمْتَ عَلَىَّ وَعَلٰى وٰلِدَىَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صٰلِحًا تَرْضٰىهُ وَأَدْخِلْنِى بِرَحْمَتِكَ فِى عِبَادِكَ الصّٰلِحِينَ
উচ্চারণ: রাব্বি আওঝি'নি আন আশকুরা নি'মাতাকাল্লাতি আনআমতা আলাইয়্যা ওয়া আলা ওয়ালিদাইয়্যা ওয়া আন আ'মালা সালেহাং তারদাহু ওয়া আদখিলনি বিরাহমাতিকা ফি ইবাদিকাস সালিহিন।' (সুরা নামল : আয়াত ১৯)
اَللَّهُمَّ اِنِّى اَعُوْذُبِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَ ضَلَعِ الدَّيْنِ وَ غَلَبَةِ الرِّجَالِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি ওয়াল আজযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল জুবনি ওয়াল বুখলি ওয়া দালায়িদ দাইনি ওয়া গালাবাতিল রিজালি।’ (বুখারি ও মুসলিম, মিশকাত)
اَللَّهُمَّ اِنِّى اَعُوْذُبِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَاَعُوْذُبِكَ مِنَ الْبُخْلِ وَاَعُوْذُبِكَ مِن اَرْذَلِ الْعُمُرِ وَ اَعُوْذُبِكَ مِن فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَ عَذَابِ الْقَبْرِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল জুবনি ওয়া আউজুবিকা মিনাল বুখলি ওয়া আউজুবিকা মিন আরজালিল উমুরি ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিদ দুনিয়া ওয়া আজাবিল কাবরি।’ (বুখারি ও মিশকাত)
اَللَّهُمَّ اِنِّى اَعُوْذُبِكَ مِن جَهْدِ الْبَلَاءِ وَ دَرَكِ الشَّقَاءِ وَ سُوْءِ الْقَضَاءِ وَ شَمَاتَةِ الْأَعْدَاءِ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন জাহদিল বালায়ি ওয়া দারাকিশ শাক্বায়ি ওয়া সুয়িল ক্বাজায়ি ওয়া শামাতাতিল আ’দায়ি।’
اَللَّهُمَّ اكْفِنِىْ بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَأَغْنِنِىْ بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা ওয়া হারামিকা ওয়া আয়িন্নি বিফাজলিকা আম্মান সেওয়াকা।’
এমকে/টিএ