এবারের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে শুধু সংগীত নয়, রাজনীতি ও মানবাধিকারের প্রশ্নও উঠে এসেছে জোরালোভাবে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসী ও প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং সহিংসতার প্রেক্ষাপটে, এবারের গ্র্যামি হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদের এক শক্ত মঞ্চ।
গেল ১ ফেব্রুয়ারি লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্রিপ্টো ডটকম অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ গ্র্যামিতে লালগালিচা থেকে শুরু করে মূল অনুষ্ঠানজুড়ে অনেক শিল্পী ‘ICE OUT’ লেখা ব্যাজ পরেন।
কেলানি, জাস্টিন ও হেইলি বিবার, বিলি আইলিশসহ একাধিক তারকা প্রকাশ্যে অভিবাসনবিরোধী সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।
তবে সবচেয়ে জোরালো বক্তব্যটি আসে পুয়ের্তো রিকোর সুপারস্টার ব্যাড বানির কাছ থেকে। ‘ডেবি তিরার মাস ফোতোস’ অ্যালবামের জন্য সেরা মুসিকা উরবানা অ্যালবাম বিভাগে গ্র্যামি হাতে নিয়ে তিনি মঞ্চে বলেন,‘ধন্যবাদ জানানোর আগে আমি বলতে চাই-ICE OUT। আমরা বর্বর নই, আমরা পশু নই, আমরা ভিনগ্রহের কেউ নই। আমরা মানুষ, এবং আমরা আমেরিকান।’
এ সময় তিনি ঘৃণার রাজনীতির বিরুদ্ধেও সরব হন। ব্যাড বানি বলেন, ‘এই সময়টায় কাউকে ঘৃণা না করা কঠিন হয়ে উঠেছে। মাঝে মাঝে আমরা নিজেরাও সেই ঘৃণায় ‘দূষিত’ হয়ে পড়ি। ঘৃণার জবাবে ঘৃণা দিলে তা আরও শক্তিশালী হয়। কিন্তু ঘৃণার চেয়েও শক্তিশালী একটি জিনিস আছে-ভালোবাসা। যদি লড়তেই হয়, তাহলে ভালোবাসা দিয়েই লড়তে হবে। আমরা কাউকে ঘৃণা করি না। আমরা আমাদের মানুষদের, আমাদের পরিবারকে ভালোবাসি। সেটাই পথ-ভালোবাসার পথ।
অভিবাসন ইস্যুতে ব্যাড বানির এই অবস্থান নতুন নয়। অতীতেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। ২০২০ সালে জিমি ফ্যালনের টক শোতে হাজির হয়ে তিনি পুয়ের্তো রিকোর এক ট্রান্স নারী আলেক্সা নেগ্রোন লুসিয়ানোর স্মরণে টি-শার্ট পরেছিলেন, যিনি সে বছর নিহত হন।
সে দিক থেকে দেখলে, ২০২৬ গ্র্যামির মঞ্চে আইসিইর সহিংসতা ও দমননীতির বিরুদ্ধে ব্যাড বানির কণ্ঠ তুলে ধরা খুব একটা অপ্রত্যাশিত ছিল না। এখন প্রশ্ন একটাই আগামী সপ্তাহে সুপার বোলের হাফটাইম শোতে তিনি কীভাবে এই মানবিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন?
এমকে/টিকে