মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারে প্রকাশ্যে আসেন দীর্ঘদিন পলাতক থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের গ্রেপ্তার দাবি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে শিবচর থানায় ঘেরাও করে বিক্ষোভ হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে ‘শিবচরের সর্বস্তরের জনগণ’- এর ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়েছেন।
মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে নির্বাচনী উঠান বৈঠকে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আলোচিত নেতাদের দেখা যায়। আওয়ামী লীগের নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর ও ধানের শীষের প্রতীকে ভোট চাচ্ছেন। এরপরই বিষয়টি নিয়ে রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সূত্র জানায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে আসা ও আসন্ন নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে, এমন অভিযোগ তোলেন শিবচরের ‘জুলাই যোদ্ধারা’। পরে তাঁরা একত্র হয়ে ‘সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক ঘুরে শিবচর থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে অর্ধশত ব্যক্তি থানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তাঁরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলামের কাছে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেন। আন্দোলনকারী ব্যক্তিদের পক্ষে বক্তব্য দেন শাহাদাত হোসেন মিশন।
তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করে ওসির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। ২৪ ঘণ্টা সময় আমরা ওসিকে দিয়েছি। এর মধ্যে যদি প্রকাশ্যে আসা আওয়ামী দোসরদের গ্রেপ্তার করা না হয়, তাহলে পাঁচ হাজার লোক নিয়ে আমরা থানা ঘেরাও করব। এটাই আমাদের কর্মসূচি।
এ বিষয়ে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিক্ষোভকারী ব্যক্তিরা নিজেদের জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাঁরা আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের যারা বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় হয়েছেন, তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের স্মারকলিপি আমরা গ্রহণ করে আশ্বস্ত করেছি, যারা সুনির্দিষ্টভাবে অভিযুক্ত বা যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাদের গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
এসএস/টিএ