মঞ্চের আলো, দর্শকের করতালি আর গানের সুর সবকিছুর মাঝখানেই হঠাৎ থেমে যায় একটি অনুষ্ঠান। সেই মুহূর্তের অস্বস্তিই পরে রূপ নেয় আইনি লড়াইয়ে। অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে ঘিরে বনগাঁর একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ঘটনাপ্রবাহ এখন বিনোদন জগতের আলোচনার কেন্দ্রে।
গত জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে বনগাঁর নয়া গোপালগঞ্জ যুব সংঘের আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল মিমির। অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে পৌঁছন তিনি। মঞ্চে উঠতে উঠতেই প্রায় মধ্যরাত। কিছুক্ষণ পারফরম্যান্সের পরই তাঁকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি। সেই ঘটনার জেরেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন অভিনেত্রী।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। সেই সময় তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা তনয় শাস্ত্রীকে। বর্তমানে তিনি জেল হেফাজতে রয়েছেন। এই মামলার সূত্র ধরেই এবার বনগাঁ আদালতে গোপন জবানবন্দি দিলেন মিমি চক্রবর্তী। আদালতে হাজির হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, ক্লাবের অন্যান্য সদস্যদের আচরণ ভদ্র ও সম্মানজনক ছিল, তবে তনয় শাস্ত্রীর ব্যবহারে তিনি অপমানিত বোধ করেছেন।
মিমির কথায়, তাঁর বিরুদ্ধে যে অপবাদ ছড়ানো হয়েছে, তার বিরুদ্ধেই তিনি লড়ছেন। তিনি দাবি করেন, অনুষ্ঠান থেমে যায়নি, তাঁর চলে যাওয়ার পরও তা চলেছে এবং সেই সংক্রান্ত নথিও তাঁর কাছে রয়েছে। আদালতে সেই প্রমাণই জমা দিয়েছেন বলে জানান অভিনেত্রী।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তকে নির্দিষ্ট দিনে আবারও আদালতে হাজির করা হবে। মঞ্চের একটি মুহূর্ত কীভাবে আদালতের নথিতে গড়িয়ে যায়, এই ঘটনাই যেন তার সাম্প্রতিক উদাহরণ। আলো আর করতালির জগতে যেখানে সবকিছুই ঝলমলে বলে মনে হয়, সেখানে কখনও কখনও অপমানের ছায়াও যে দীর্ঘ হয়ে দাঁড়াতে পারে, বনগাঁর এই ঘটনাপ্রবাহ সেটাই মনে করিয়ে দিল।
পিআর/টিকে