ভারতের চলচ্চিত্র জগতের গত দেড় দশকের সবচেয়ে বেশি দর্শক টানা ছবিগুলোর তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে বিনোদন অঙ্গনে। এই তালিকা স্পষ্ট করে দিচ্ছে, বড় তারকার উপস্থিতি, গণআবেগ আর মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া জনপ্রিয়তাই এখন প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানার মূল শক্তি। সাম্প্রতিক সময়ের একাধিক আলোচিত ছবি প্রেক্ষাগৃহকে যেন উৎসবের ময়দানে পরিণত করেছিল, সেই বাস্তবতাই উঠে এসেছে এই হিসাব–নিকাশে।
তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে ‘পুষ্পা টু: দ্য রুল’, যার দর্শকসংখ্যা প্রায় চার কোটিতে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। এই সাফল্য আবারও প্রমাণ করেছে আল্লু অর্জুনের বিপুল জনপ্রিয়তা ও সাধারণ দর্শকের সঙ্গে তাঁর গভীর সংযোগ। খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে শাহরুখ খানের ‘জওয়ান’, যার দর্শকসংখ্যা প্রায় তিন কোটি বিরানব্বই লাখ। দীর্ঘ বিরতির পর শাহরুখের প্রত্যাবর্তন যে কতটা শক্তিশালী ছিল, সেই ছবির সাফল্যই তার বড় প্রমাণ হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে ২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ধুরন্ধর’ অনেকের কাছেই ছিল অপ্রত্যাশিত চমক। শুরুর দিকে তেমন বড় উদ্বোধন না থাকলেও মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া প্রশংসাই শেষ পর্যন্ত ছবিটিকে তিন কোটি পঞ্চাশ লাখ দর্শকের মাইলফলকে পৌঁছে দেয়। এই সাফল্য দেখিয়ে দিয়েছে, কেবল প্রচার নয়, দর্শকের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াই একটি ছবিকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সাহায্য করতে পারে।
তালিকায় আরও রয়েছে ‘বাহুবলী টু’, ‘দঙ্গল’, ‘কেজিএফ অধ্যায় টু’ ও ‘টু পয়েন্ট জিরো’র মতো বহুল আলোচিত ছবি। ভিন্ন ভাষা ও অঞ্চলের এই চলচ্চিত্রগুলো প্রমাণ করেছে, বিশাল আয়োজনে নির্মিত চমকপ্রদ দৃশ্য ও শক্তিশালী উপস্থাপন দর্শকদের বারবার প্রেক্ষাগৃহমুখী করে তোলে। ভাষার ভেদাভেদ পেরিয়ে সর্বভারতীয় দর্শক টানার এই প্রবণতাই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।
এদিকে ২০২৬ সালজুড়ে একাধিক বড় বাজেটের ছবি মুক্তির অপেক্ষায় থাকায় প্রেক্ষাগৃহ মালিক ও বাণিজ্য বিশ্লেষকদের দৃষ্টি এখন আগামীর দিকেই। নতুন কোন ছবি এই দর্শকসংখ্যার তালিকায় জায়গা করে নেবে, কিংবা পুরোনো রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়বে তা দেখার অপেক্ষায় এখন গোটা চলচ্চিত্র অঙ্গন।
এমকে/টিকে