বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি স্টকগুলোতে ব্যাপক বিক্রি ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ প্রত্যাহারেরর কারণে বিটকয়েনের দাম ১৬ মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে ৬০ হাজার ডলারের নিচে নামার পথে রয়েছে এই জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিটকয়েন ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়ে ৬৪ হাজার ১৫৩ দশমিক ২৪ ডলারে লেনদেন হয়েছে। তবে সেশনের শুরুতে এটি ৬০ হাজার ৮ দশমিক ৫২ ডলারে নেমে আসে, যার ফলে দামে লাভ এবং ক্ষতির মধ্যে দোলাচল চলছে।
২০২৪ সালের অক্টোবরের পর এটি সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় পৌঁছেছে। সেসময় মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রচারণার সময় ক্রিপ্টোকে সমর্থন করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
মেলবোর্নের ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান পেপারস্টোনের গবেষণা প্রধান ক্রিস ওয়েস্টন বলেন, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে বিটকয়েনের দাম কমছে। অনেক বড় বিনিয়োগ দ্রুত বন্ধ করা হচ্ছে, যার কারণে দাম আরও নেমে যাচ্ছে।
এদিকে ইথারের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৯১ দশমিক ২৭ ডলারে পৌঁছেছে। তবে সেশনের শুরুতে এটি ১০ মাসের সর্বনিম্ন ১ হাজার ৭৫১ দশমিক ৯৪ ডলারে নেমে গিয়েছিল। কয়েনজেকোর তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শুরুতে ক্রিপ্টো বাজারের সর্বমোট মূল্য ৪ দশমিক ৩৭৯ ট্রিলিয়ন ডলার স্পর্শ করার পর থেকে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার কমেছে, যেখানে গত এক মাসেই ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বাজারমূল্য ধ্বংস হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে বিটকয়েন ১৬ শতাংশ হ্রাসের পথে রয়েছে, যার ফলে বছরের জন্য ক্ষতি এখন পর্যন্ত ২৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ইথারও সাপ্তাহিক ১৭ শতাংশ কমেছে এবং এ বছর এখন পর্যন্ত ৩৬ শতাংশের ক্ষতি হয়েছে।
মূল্যবান ধাতু ও স্টকের সাম্প্রতিক বিক্রির কারণে ক্রিপ্টো বাজারে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবও শীতল হয়ে গেছে। বিশেষ করে লিভারেজড বিনিয়োগকারীরা বাজারের প্রকৃত অস্থিরতা ও ঝুঁকি মোকাবিলা করতে ঝামেলায় পড়ছেন।
ডয়চে ব্যাংকের বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, মার্কিন স্পট বিটকয়েন ইটিএফ থেকে জানুয়ারিতে ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ বহির্গমন হয়েছে। এছাড়া ডিসেম্বর ও নভেম্বরে যথাক্রমে প্রায় ২ বিলিয়ন ও ৭ বিলিয়ন ডলার বাজার থেকে বেরিয়ে গেছে।
এমআই/টিকে