টলিউড অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তীকে ঘিরে বিতর্ক যেন থামার নামই নিচ্ছে না। পার্ক স্ট্রিটের এক ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁয় বন্ধুর সঙ্গে ডিনারে যাওয়া থেকেই শুরু, আর সেই এক রাতের ঘটনাই এখন তাঁর কেরিয়ার ও ব্যক্তিজীবনের উপর ঘন ছায়া ফেলেছে। বন্ধু সুকান্ত কুণ্ডু এবং তাঁর হবু স্ত্রী অনন্যা গুহর সঙ্গে খাবার খেতে গিয়েছিলেন সায়ক। অভিযোগ, মাটনের বদলে ভুলবশত গোরুর মাংস পরিবেশন করা হয় তাঁদের টেবিলে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক, যা শেষ পর্যন্ত থানা, পুলিশ হয়ে আদালতের দোরগোড়ায় পৌঁছয়। ইতিমধ্যেই ওই রেস্তোরাঁর এক বেয়ারা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
ঘটনার পর থেকেই টলিউডের একাংশ এবং নেটমাধ্যমের বহু মানুষ সায়ককে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করতে শুরু করেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, কার্যত একঘরে হয়ে পড়েন অভিনেতা। এর মাঝেই আলোচনায় উঠে আসে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু সুকান্ত কুণ্ডু ও অনন্যা গুহর ভূমিকা। নেটমাধ্যমের একাংশের দাবি, বিপদের সময়ে সায়কের পাশে না দাঁড়িয়ে তাঁরা নাকি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন।
বুধবার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতামূলক একটি ভিডিও প্রকাশ করেন সুকান্ত। কিন্তু সেই ভিডিওর মন্তব্যের ঘর ভরে যায় সায়ককে ঘিরে প্রশ্ন ও কটাক্ষে। এক নেটমাধ্যম ব্যবহারকারী সরাসরি অভিযোগ তোলেন, একই টেবিলে তিনজন উপস্থিত থাকলেও শেষ পর্যন্ত একাই বিপদে পড়লেন সায়ক, আর বাকিরা সরে গেলেন। এই মন্তব্যের জবাব এড়িয়ে যাননি সুকান্ত। সংযত ভাষায় তিনি জানান, তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয় তাঁরা নিজেরাই জানেন, বাইরে থেকে কেউ মন্তব্য করতেই পারেন। তাঁর এই উত্তরের পরই নতুন করে জল্পনা শুরু হয়, বন্ধুত্বের ভেতরেও কি দূরত্ব তৈরি হয়েছে। যদিও অন্য একাধিক মন্তব্যে তিনি দাবি করেন, তাঁরাও সায়কের পাশেই রয়েছেন এবং অভিনেতার এখন সময় প্রয়োজন।
বিতর্কের পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে কার্যত নিস্তব্ধ সায়ক চক্রবর্তী। ফেব্রুয়ারির শুরুতে রেস্তোরাঁর পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়ার একটি বার্তা ভাগ করে নিয়েছিলেন তিনি, সেটিও কটাক্ষের মুখে পড়ে। তারপর আর কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া নেই। ফোন কিংবা বার্তা- কোথাও সাড়া দিচ্ছেন না অভিনেতা। এর মধ্যেই তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। জানা গিয়েছে, পার্ক স্ট্রিটের এই ঘটনায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনায় উস্কানির অভিযোগে সায়কের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের হয়েছে, যা এই বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।
এমআই/টিকে