কোন যোগ্যতায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন- এমন প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাহেদ উর রহমান।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রতিদ্বন্দ্বী জোটগুলোর প্রধান নেতা জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেয়। এটা আমাদের রেওয়াজ।
যখন সত্যিকার অর্থে নির্বাচন হতো তখন এই ঘটনাটা ঘটতো এবং সেটা বিটিভিতে দেখানো হতো, যাতে সব মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। আমরা এর মধ্যে খবর পেয়ে গেছি তারেক রহমান এবং ড. শফিকুর রহমান ৯ তারিখ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।’
‘বিষয় সেটা না, বিষয় হচ্ছে নাহিদ ইসলামও জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন, যেটার স্লট এখনো পাওয়া যায়নি। তার দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাকে ভাষণ দিতে দেওয়া হবে।
কিন্তু সেটা কবে এখনো নির্ধারিত না। আমরা এই প্রশ্ন সুস্পষ্টভাবে করতে চাই, নাহিদ ইসলাম কীভাবে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার যোগ্য হয়ে উঠলেন?’
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমরা জানি যে নাহিদ ইসলামের দল এনসিপি জামায়াত জোটে আছে। সেই জোটের প্রধান নেতা ড. শফিকুর রহমান ভাষণ দেবেন, এটাই হয়। আগেও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে দুই প্রধান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতেন।
এখনো তারেক রহমান এবং ড. শফিকুর রহমান দেবেন; এটাই হওয়ার কথা।
‘আমরা একটা বিষয় খেয়াল করেছি, ড. ইউনূসের এই যে স্টুডেন্টরা আছেন; তাদের প্রতি সিরিয়াস বায়াস আছে। এটা দেখেছি তিনটা প্রধান দল হিসেবে যখন ডাকা হতো, তখন এনসিপিকে ডাকা হতো; নাহিদ ইসলাম যেতেন বা অন্য নেতারা যেতেন। সেটাকে আমরা তখন পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছিলাম। কারণ, তখনো এনসিপি একটা ইন্ডিপেন্ডেন্ট অ্যাটিটিউড রেখেছিল দলটা, শক্তি-সাইজ কতটুকু এটা নিয়ে আমাদের সিরিয়াস প্রশ্ন আছে।’
‘কিন্তু এখন এই প্রশ্ন আমরা আসলেই করব, এনসিপি এখন কোনো ইন্ডিপেন্ডেন্ট দল না, তো সেই কারণে এখন তো কোনো প্রশ্নই আসে না তাকে জাতির উদ্দেশে ভাষণের সুযোগ দেওয়ার। আমি সত্যিই মনে করেছিলাম, ড. ইউনূস এদের প্রতি বায়াসড থাকলেও নির্বাচনের সময়গুলোতে অন্তত তিনি এতটা নিচে নামবেন না। যাই হোক আমি সত্যিই চাইব; ড. ইউনূস তার এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসবেন।’
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘ড. ইউনূস এমন একটা দায়িত্বে আছেন, যেখান থেকে সবাইকে তার সমান দৃষ্টিতে দেখা দরকার। এখন একটি নির্দিষ্ট দলকে যদি এসব সুবিধা দিতে থাকেন প্রশ্ন আরো বেশি করে তৈরি হবে। সরকারকে এখনই থামতে হবে এবং আমি মনে করি নাহিদ ইসলামকে কোনোভাবেই বিটিভিতে ভাষণ দিতে দেওয়া যাবে না।’
টিজে/টিকে